ব্রেকিং নিউজ
হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে দেশ ছাড়তে মরিয়া আলোচিত এসপি হুমায়ুন ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা চালকের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: ইসি আনোয়ারুল আটকের সময় রাহুল গান্ধীকে পুলিশ সদস্যের বার্তা—‘মোদিকে হটাও’ পোশাক শিল্পের বিকাশে যা প্রয়োজন, সরকার তাই করবে : প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় ইসরায়েলে হামলা, হিজবুল্লাহকে প্রস্তুত থাকতে বললো ইরান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সরকারের প্রধান লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইট উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

কানাডায় থাকার বৈধতা হারাচ্ছেন ১০ লাখ ভারতীয়

Mohon | আপডেট: ০৩ জানুয়ারী ২০২৬ - ১০:৫৪:৪৬ এএম

আন্তর্জাতিক ডেক্স : কানাডায় বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় নাগরিক আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশটিতে তাদের বৈধ বসবাসের অনুমতি বা আইনি মর্যাদা হারানোর চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। মূলত কাজের অনুমতির (ওয়ার্ক পারমিট) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং নতুন ভিসা প্রাপ্তি বা স্থায়ী বসবাসের (পিআর) সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসায় এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মিসিসাগা-ভিত্তিক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ কানওয়ার সিরাহ কর্তৃক কানাডার অভিবাসন দপ্তর (আইআরসিসি) থেকে সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে প্রায় ১০ লক্ষ ৫৩ হাজার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে আরও প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার পারমিট শেষ হওয়ার পথে রয়েছে। এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ কানাডায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ অনিয়মিত বা নথিপত্রহীন হয়ে পড়তে পারেন, যার অর্ধেকই ভারতীয় নাগরিক।

কানাডা সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর অভিবাসন নীতি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। অস্থায়ী কর্মী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মকানুন কঠিন করার পাশাপাশি রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম আবেদনের প্রক্রিয়াতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ফলে যাদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাদের সামনে বৈধভাবে থাকার বিকল্প পথগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কানওয়ার সিরাহ সতর্ক করে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক নাগাদ প্রায় ৩ লক্ষ ১৫ হাজার মানুষের পারমিটের মেয়াদ শেষ হবে, যা দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি করবে।

ইতোমধ্যেই এই পরিস্থিতির সামাজিক প্রভাব পরিলক্ষিত হতে শুরু করেছে। বৃহত্তর টরন্টো এলাকা, বিশেষ করে ব্র্যাম্পটন এবং ক্যালেডনের বনাঞ্চলে অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বসবাস করতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, আইনি মর্যাদা হারানো অনেক ভারতীয় নাগরিক এখন নামমাত্র মজুরিতে নগদ টাকায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর পাশাপাশি বৈধ হওয়ার আশায় ভুয়া বিয়ের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চক্রও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই মানবিক ও আইনি সংকটের প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিভিন্ন অধিকার রক্ষা সংগঠন। ‘নওজোয়ান সাপোর্ট নেটওয়ার্ক’-এর মতো কর্মীবান্ধব সংগঠনগুলো জানুয়ারি মাস থেকে বড় ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে। তাদের দাবি, যারা কানাডার অর্থনীতিতে শ্রম দিচ্ছেন, তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দিতে হবে। ‘কাজের জন্য যোগ্য হলে, থাকার জন্যও যোগ্য’ — এই স্লোগানকে সামনে রেখে তারা অভিবাসন নীতি সংস্কারের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

 

কুইক টিভি / মহন / ০৩ জানুয়ারি ২০২৬,/ সকাল ১০: ৫৪

 

▎সর্বশেষ

ad