ব্রেকিং নিউজ
৯ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি টাকা মধ্যপ্রাচ্যে একযোগে ৫ দেশে ইরানের অতর্কিত হামলা বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫১, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘জমির উদ্দিন সরকার শুধু রাজনীতিবিদ নন, ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান’ রাত ১টার মধ্যে ১৭ জেলায় অতিভারী বৃষ্টির আভাস খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের চট্টগ্রামের বন্যা উন্নতির পূর্বাভাস, সিলেট-রংপুরে শঙ্কা চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ পদক্ষেপ খামেনির জানাজা-দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন ৪ কোটিরও বেশি মানুষ

ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠা মদিনায় ওমর রা.-এর ঐতিহাসিক ভাষণ

khurshed | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২৫ - ১২:৫১:০৮ পিএম

ডেস্ক নিউজ : আবদুল্লাহ তামিম

ইমাম ইবনে আবি শাইবা তার ‘মুসান্নাফ’-এ এই ঘটনার বর্ণনা আনেন। সেখানে হজরত সাফওয়ান ইবনে উমর (রা.)-এর সূত্রে শুরাহবিল বিন সিমত বলেন, ভূমিকম্প হলে হজরত ওমর (রা.) মিম্বারে উঠে খুতবা দেন এবং বলেন, হে মদিনার লোক! তোমরা এত দ্রুত কী পরিবর্তন করে ফেললে! আল্লাহর কসম! যদি ভূমিকম্প আবার ফিরে আসে, আমি তোমাদের মধ্য থেকে সরে যাব। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, ৩১২১৯)

তার ঘোষণা, যদি আবার আসে, আমি চলে যাব,  দুইটি বিষয় প্রমাণ করে। প্রথমত, আল্লাহর শাস্তির প্রতি তার ভয়। দ্বিতীয়ত, একজন শাসকের দায়িত্ব, সমাজকে পাপ থেকে ফিরিয়ে আনা। কারণ নেতার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক নয়; বরং নৈতিক শুদ্ধতাও প্রতিষ্ঠা করা। হজরত ওমরের কথার পেছনে কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট ভিত্তি রয়েছে। কুরআন বলে, তোমাদের বিপদের কারণ তোমাদের নিজেদের কর্ম। (শুরা, ৩০) এবং আমি নিদর্শন পাঠাই ভীতি প্রদর্শনের জন্য। (ইসরা, ৫৯)। তাই প্রাকৃতিক বিপর্যয় শুধু বিজ্ঞান নয়; বরং আধ্যাত্মিক বার্তাও।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বহু হাদিসে উল্লেখ আছে, যখন সমাজে পাপাচার বৃদ্ধি পায়, তখন বিপর্যয় নেমে আসে; অশ্লীলতা, প্রতারণা, অবিচার ও যাকাত অবহেলার কারণে দুর্ভিক্ষ, রোগ, শাস্তি ও সমাজিক অস্থিরতা দেখা দেয়। একইসঙ্গে কেয়ামতের আগে ভূমিকম্প বাড়বে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। (বুখারি ১০৩৬) হাদিস বিশারদদের মতে, হজরত ওমরের যুগে ব্যবসায় প্রতারণা, বিলাসিতা, গাফিলতি ও কিছু সামাজিক গুনাহ বাড়তে শুরু করেছিল। তাই তিনি ভূমিকম্পকে কেবল কাঁপুনি হিসেবে নয়, বরং আত্মসমালোচনার আহ্বান হিসেবে গ্রহণ করেন। তার ইমানি সংবেদনশীলতা এত গভীর ছিল যে, সামান্য পরিবর্তনও তিনি আল্লাহর অসন্তুষ্টির সম্ভাবনা হিসেবে দেখতেন।

এই ঘটনার মাধ্যমে চারটি শিক্ষা স্পষ্ট হয়, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আধ্যাত্মিক দিক রয়েছে, সমাজের গুনাহ আল্লাহর রহমত হটিয়ে দেয়, নেতারও গুনাহের পরিবেশে থাকা উচিত নয়, এবং বিপদ দেখা দিলে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই নিরাপত্তার পথ।
আজ যখন প্রচণ্ড ভূমিকম্প, বন্যা, ঝড়-তুফানসহ নানা বিপর্যয় পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে, তখন প্রশ্নটি আমাদেরও করা উচিত: আমরা কোথায় বদলে গেছি? আমাদের কোন ভুলগুলো আল্লাহ আমাদের দেখাতে চাইছেন? কীভাবে আমরা ফিরে যাব আমাদের রবের দিকে? হজরত ওমরের হৃদয় আল্লাহভীতিতে কেঁপে উঠেছিল, আজ আমাদের হৃদয়ে সেই কেঁপে ওঠার প্রয়োজন আরও বেশি।

 

 

খোরশেদ/২৩ নভেম্বর ২০২৫,/দুপুর ১২:৪৮

 

▎সর্বশেষ

ad