
ডেস্ক নিউজ : লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজারে কোনো পণ্যেই যেন স্বস্তি নেই। আজ দাম কমে তো কাল আবার বাড়ে। একই অবস্থা পেঁয়াজের বাজারেও। তবে ভারতের পেঁয়াজ রফতানিতে ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য প্রত্যাহার ও শুল্ক কমানো এবং বাংলাদেশে আমদানি শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্তে গেলো মাসে দেশের বাজারে কিছুটা নিম্নমুখী ছিল পেঁয়াজের দাম; কিন্তু বর্তমানে আবারও ঊর্ধ্বমুখী।
এ পরিস্থিতিতে ৬ নভেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, পেঁয়াজের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ও সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে আমদানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক এবং রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ করভার আর থাকছে না। এতে পেঁয়াজ আমদানি বৃদ্ধি পেয়ে বাজারে সরবরাহ বাড়বে। ফলে পেঁয়াজের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে।
তবে এর তেমন কোনো প্রভাবই পড়েনি বাজারে। বর্তমানে বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকায়; আর ভারতীয় পেঁয়াজ ১২০ টাকায়। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম ২৭.২৭ শতাংশ ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ১২.৮২ শতাংশ বেড়েছে।

ক্রেতারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা খেয়ালখুশি মতো পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরেও বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। বাজার নিয়ন্ত্রণে দরকার কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা। ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশি পেঁয়াজের মৌসুম প্রায় শেষের দিকে। নতুন পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত বাজার একটু চড়াই থাকবে। কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রাকিবুল জানান, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১২০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০৮ টাকায়। এছাড়া, মিশরীয় পেঁয়াজ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকায়। ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি থাকলে দাম কিছুটা নাগালে থাকতে পারে।
আড়তদার ও আমদানিকারকরা বলছেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসার আগ পর্যন্ত দাম চড়াই থাকবে। বাজারে নিয়ন্ত্রণে আমদানির বিকল্প নেই। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মিনহাজ বাণিজ্যালয়ের খলিল বলেন, বছরের এ সময় বাজারে দেশি পেঁয়াজ সরবরাহ কম থাকে; তাই দাম বেশি। আগামী ২ মাস দাম চড়া থাকতে পারে। এরপর দাম কমতে শুরু করবে।

রাজধানীর শ্যামবাজারের মেসার্স রাজ ট্রেডিংয়ের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার কৃষকরা সঠিক সময়ে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বুনতে পারেননি। ফলে নতুন পেয়াঁজ আসতে কিছুটা দেরি হতে পারে। বাজার নিয়ন্ত্রণে পেঁয়াজ আমদানির বিকল্প নেই। প্রয়োজনে একাধিক দেশ থেকে পেঁয়াজ আনতে হবে। এতে বাজারে সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম নাগালে থাকবে।
আমদানিকারক এবং রাজধানীর শ্যামবাজার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মাজেদ সময় সংবাদকে বলেন, আড়তগুলোতে দেশি পেঁয়াজ এখন প্রায় নেই বললেই চলে। ভারতীয় পেঁয়াজ ১০০-১০৮ টাকা ও মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকায়।
দেশি পেঁয়াজ বাজারে পুরোপুরি আসতে অন্তত ২-৩ মাস সময় লাগতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার আগ পর্যন্ত আমদানি করা পেঁয়াজের ওপরই নির্ভর করতে হবে। সরকার পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। এতে আমদানি বাড়বে এবং পাইকারি পর্যায়ে দাম ৪-৫ টাকা কমতে পারে।
এদিকে, সরবরাহসংকটে বাজারে দেশি রসুনের দামও কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় ওঠেছে। আর আমদানি রসুন কেজিতে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, মানভেদে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়।
কিউটিভি/আয়শা/০৮ নভেম্বর ২০২৪,/দুপুর ১:৫০






