
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে। পশ্চিমা অত্যাধুনিক সব অস্ত্র নিয়েও যুদ্ধে মার খাচ্ছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এরপরও গত একমাস ধরে বিদেশি নেতাদের কাছে ‘বিজয় পরিকল্পনা’ তুলে ধরেছেন দেশটির নেতা ভ্লাদিমির জেলেনস্কি।
এরপর বুধবার (১৬ অক্টোবর) ইউক্রেনীয় সংসদ সদস্য ও সাধারণ জনগণের পাশাপাশি ইউরোপীয় কাউন্সিলের কাছেও এ ‘বিজয় পরিকল্পনা’ উন্মোচন করেন তিনি। ‘ভিক্টোরি প্লান’ শীর্ষক ওই পরিকল্পনায় আগামী বছরের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করে দীর্ঘমেয়াদে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন।
‘বিজয় পরিকল্পনা’ ঘোষণার পরই জেলেনস্কিকে ফোন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ফোনালাপকালেই ইউক্রেনের জন্য নতুন করে আরও সাড়ে ৪২ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেন তিনি।
রয়টার্স জানিয়েছে, এরপর হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, এই সহায়তা প্যাকেজে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, সাঁজোয়া যান ও গোলাবারুদসহ প্রয়োজনীয় সব যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে।
নতুন সহায়তা প্যাকেজ পাওয়ার পর বাইডেন ও মার্কিন কংগ্রেসকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক পোস্টে তিনি জানান, যুদ্ধে বিজয়লাভের জন্য কিয়েভের পাঁচ দফা পরিকল্পনা নিয়ে বাইডেনের সঙ্গে আলাপ হয়েছে তার।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি বাইডেনকে সম্মিলিতভাবে অস্ত্র উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি। ইউক্রেনীয় সেনাদের অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেছি আমরা।’
তবে জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিজয়ের স্বপ্ন দেখলেও ব্রিটিশ সেনাবাহিনী সামনে ইউক্রেনের পরাজয় দেখছে। শুরু থেকে ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে ব্রিটেন বরাবরই প্রকাশ্যে রাশিয়ার সাথে সংঘর্ষে কিয়েভের আপসহীন অবস্থানকে সমর্থন করে এলেও তবে তার জেনারেলদের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হল, পরিস্থিতি ইউক্রেনের প্রতিকূলে।
একটি সামরিক সূত্র ডেইলি এক্সপ্রেসকে বলেছে, ‘আমি আজ খুব সিনিয়র একজন ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন যে, ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পথে। পরিস্থিতি খুবই গুরুতর।’
কিউটিভি/আয়শা/১৭ অক্টোবর ২০২৪,/সন্ধ্যা ৭:৪৫






