প্রথমে প্রাচীন আরব রেওয়াজ ও নিয়মনীতি অনুসারে মল্লযুদ্ধ হয়। মহানবীর নির্দেশে হজরত আমির হামজা (রা.) হজরত আলী (রা.) ও হজরত আবু ওবায়দা (রা.) কুরাইশ পক্ষের নেতা উতবা, শায়বা এবং ওয়ালিদ বিন উতবার সঙ্গে মল্লযুদ্ধে অবতীর্ণ হন। এতে শত্রুপক্ষ শোচনীয়ভাবে পরাজিত ও নিহত হয়। উপায়ন্তর না দেখে আবু জেহেলের নেতৃত্বে কুরাইশগণ মুসলমানদের ওপর প্রচণ্ডভাবে আক্রমণ চালাতে লাগল, কিন্তু প্রতিকূল অবস্থায়ও সংঘবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলা করা কুরাইশদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
১৭, ১৯ এবং ২১ রমজান এই তিন দিনই আল্লাহর গায়েবি সাহায্যে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ মান্য করে, অপূর্ব বিক্রম ও অপরিসীম নিয়মানুবর্তিতার সঙ্গে যুদ্ধ করার কারণে মুসলমানদের মহান রাব্বে কারিম প্রভাবশালী ও অহংকারী কুরাইশদের বিরুদ্ধে বিজয় দান করেন। সুবহানাল্লাহ। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, আর আল্লাহ রব্বুল আলামিন বদরের যুদ্ধে এমন অবস্থায় তোমাদেরকে সাহায্য করলেন, যখন তোমরা ছিলে সম্পূর্ণ সহায় সম্বলহীন, সুতরাং তোমরা অন্তরে আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পার। (সুরা আলে ইমরান : ১২৩) বদরের যুদ্ধে আবু জেহেলসহ ৭০ জন কুরাইশ সৈন্য নিহত হয় ও সমসংখ্যক সৈন্য বন্দি হয়। অন্যদিকে মাত্র ১৪ জন মুসলিম সৈন্য শাহাদাতবরণ করেন। বস্তুত বদরের ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে অনন্য এক অবস্থান দখল করে রেখেছে।
এ যুদ্ধ ছিল ইসলামের সর্বপ্রথম সামরিক বিজয়ের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কাফির, মুশরিক, মুনাফিকদের দম্ভ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। এভাবে আল্লাহপাক যুগে যুগে হককে গালেব করেন। বাতিলকে নিঃশেষ করে দেন। পবিত্র কোরআনে সুরা বনি ইসরাঈলের ৮১ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে- সত্য এসে গেছে, মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হবারই।
অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে- আর এভাবে তিনি সত্যকে সত্যরূপে এবং অসত্যকে অসত্য রূপে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তাতে অপরাধীরা যতই অপছন্দ করুক। (সুরা আনফাল : ৮) মহান রব্বুল আলামিন আমাদের বদরের ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে জীবন গঠন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
