আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাকে আটকে ৫৩ অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে গুয়াতেমালার এক নাগরিককে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসী পাচারের ঘটনায় এটি অন্যতম প্রাণঘাতী বিপর্যয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক অরল্যান্ডো গার্সিয়া ৩৯ বছর বয়সি রিগোবার্তো রামন মিরান্ডা-ওরোজকোকে এ দণ্ড দেন। ২০২৫ সালের মার্চে গুয়াতেমালা থেকে প্রত্যর্পণের এক বছরের বেশি সময় পর তার সাজা ঘোষণা করা হলো। ২০২৪ সালের আগস্টে আন্তসীমান্ত মানবপাচার চক্র ভেঙে দেওয়ার অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে প্রথম গ্রেফতার করা হয়।
মামলাটি ২০২২ সালের ২৭ জুনের এক মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের সান আন্তোনিও শহরের দক্ষিণ উপকণ্ঠের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় পরিত্যক্ত ট্রাকের ভেতর আটকে থাকা বহু অভিবাসীকে উদ্ধার করতে গিয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা তাদের সন্ধান পান।
গুয়াতেমালা থেকে যাত্রা শুরু করে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন মোট ৬৪ জন অভিবাসী। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ট্রাকটি টেক্সাসের লারেডো থেকে সান আন্তোনিওর দিকে যাচ্ছিল। দুই শহরের দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। কৌঁসুলিদের ভাষ্য, যাত্রাপথে ট্রাকটির শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ট্রাকটি যখন উদ্ধার করা হয়, তখন তাপমাত্রা প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল।
ঘটনাস্থলেই ৪৮ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে অতিরিক্ত গরম ও পানিশূন্যতাজনিত অসুস্থতায় জরুরি চিকিৎসা নেওয়ার সময় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ছয়টি শিশু ও এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ছিলেন। মৃতদের ২১ জনই ছিলেন গুয়াতেমালার নাগরিক। মিরান্ডা-ওরোজকো স্বীকার করেছেন, ট্রাকে মারা যাওয়া দুই অভিবাসী এবং গুরুতর আহত অবস্থায় বেঁচে যাওয়া আরেকজনের যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তিনি।
জুলাইয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী প্রবেশ করানোর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানো এবং অভিবাসীদের অবৈধ প্রবেশে সহায়তা করার অভিযোগ স্বীকার করেন। এ ঘটনায় মৃত্যুর পাশাপাশি গুরুতর শারীরিক আঘাতের বিষয়টিও অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত ছিল। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, এই বিপর্যয়ের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়াতেমালায় সাজাপ্রাপ্ত প্রায় ২০ জনের একজন মিরান্ডা-ওরোজকো।
যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রটির নেতা হিসেবে চিহ্নিত ফেলিপে ওরদুনা-তোরেসকে ২০২৫ সালের জুনে সান আন্তোনিওর একটি ফেডারেল আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তার প্রধান সহযোগী হিসেবে বর্ণিত আরমান্দো গনসালেস-ওর্তেগাকে ৮৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে মামলাসহ আরও কয়েকটি আইনি কার্যক্রম এখনো চলমান।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ট্রাকের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন। তাদের কেউ কেউ পোশাক খুলে ফেলেছিলেন। ট্রেইলারের ভেতরের দেয়ালে নখের আঁচড়ের চিহ্নও পাওয়া যায়, যা থেকে ধারণা করা হয়, কয়েকজন দেয়াল আঁচড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কৌঁসুলিদের দাবি, সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য অভিবাসীরা জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দিয়েছিলেন। সূত্র: আল জাজিরা
আয়শা/২১ অক্টোবর ২০২৬,/বিকাল ৫:২৪
