সীমান্তে বিজিবির নজরদারি,৯ মাসে ১২ কোটি ২০ লাখ টাকার পণ্য আটক

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ - ০৫:০৩:১৪ পিএম

তোবারক হোসেন খোকন দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোনার দুর্গাপুর সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, নারী ও শিশু পাচারসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)। বিশেষ করে দুর্গাপুরের বিজয়পুর ও ভবানীপুর এলাকার সোমেশ্বরী নদীপথ দিয়ে চোরাচালান ঠেকাতে নদীর দুই পাশে সিসি ক্যামেরা, সোলার সিস্টেম ও হ্যালোজেন লাইট স্থাপন করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা ও উপজেলা থেকে আগত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী, পিএসসি। বিজিবি অধিনায়ক বলেন, “সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সব ধরনের অবৈধ চলাচল রোধ, নারী ও শিশু পাচার এবং সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

তিনি বলেন, গত নয় মাসে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের দ্রব্যসামগ্রী আটক করতে সক্ষম হয়েছে ৩১ বিজিবি। আটক পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মদ ও মাদকদ্রব্য, পোশাকসামগ্রী, খাদ্যসামগ্রী, গবাদিপশু ও অন্যান্য পণ্য রয়েছে। এছাড়া গত পাঁচ মাসে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় কয়লা ও অন্যান্য চোরাচালানি পণ্য আটক করা হয়েছে।

বিজিবি অধিনায়ক তৌহিদুল বারী বলেন, “অধিকাংশ লোক যদি চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারতের মধ্যে প্রবেশ করে, তাহলে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা, সীমান্ত হত্যা কিংবা আহত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এসব ঘটনা প্রতিরোধে আমরা টহল জোরদার করেছি। পাশাপাশি এখানে সিসি ক্যামেরা ও হ্যালোজেন লাইটের ব্যবস্থা করেছি।” সেইসাথে এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ করব, আপনারা অবৈধ চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করবেন না। এর মাধ্যমে আমরা যেকোনো ধরনের সীমান্ত দুর্ঘটনা এড়াতে সক্ষম হব।

তিনি আরো বলেন, গত পাঁচ মাসে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। চোরাচালান বন্ধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন এবং চোরাচালান প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা, উঠান বৈঠক ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয়দের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে।

বাংলাদেশ থেকে সার, জ্বালানি তেল, পেঁয়াজ ও রসুনসহ বিভিন্ন পণ্য পাচারের বিষয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে বিজিবি বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে। এসব চোরাচালান প্রতিরোধে সোর্সের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ রসুন আটক করা হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে সার বা জ্বালানি তেল পাচার করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি। সীমান্ত চোরাচালান বন্ধে আমাদের নজরদারী অব্যাহত আছে।

সাংবাদিকদের মাধ্যমে চোরাচালানে জড়িতদের নিরুৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি প্রত্যাশা করব, আপনাদের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে অন্যরাও যেন এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম থেকে নিরুৎসাহিত হয় এবং সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবি‘র নজরদারীতে সহায়তা করবেন।

 

 

আয়শা/০৩ অক্টোবর ২০২৬,/দুপুর ১:২২

▎সর্বশেষ

ad