ইন্দিরা পেরেছিলেন, দল-প্রতীক হারিয়ে মমতা কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন?

Ayesha Siddika | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৬:৪২:২২ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের রাজনীতিতে ইন্দিরা গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনই দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাবশালী নারী নেতা হিসেবে পরিচিত। দুজনের রাজনৈতিক জীবনে কিছু মিল থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ইন্দিরার সময়ের তুলনা করতে গেলে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্যও সামনে আসে।

এরপর জরুরি অবস্থার পর ১৯৭৭ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী ও কংগ্রেস বড় ধাক্কা খায়। কিন্তু সেই পতন স্থায়ী হয়নি। ১৯৮০ সালের নির্বাচনে ইন্দিরার নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে। জরুরি অবস্থার পর ইন্দিরা তার সময়ের ভুল ও অতিরিক্ততার দায় স্বীকার করে প্রকাশ্যেও দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন।

বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার চরিত্র অবশ্য আলাদা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে নির্বাচন কমিশন গত ১৭ সেপ্টেম্বর দলটির পুরনো নাম ও প্রতীক অন্তর্বর্তীভাবে স্থগিত করেছে। দুই গোষ্ঠীকে আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে। মমতা নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী পেয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক। অন্য গোষ্ঠী পেয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং খাম প্রতীক। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা। অর্থাৎ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন তার সামনে রয়েছে আইনি লড়াইও।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সংগঠন নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে মমতার রাজনীতি মূলত তার ব্যক্তিগত নেতৃত্ব এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। এখন সেই কাঠামোর ভেতরেই বিভাজন তৈরি হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন এই সংকটের প্রথম বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে ওই দুই আসনের উপনির্বাচনে কোনো পক্ষই পুরনো তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

 

 

আয়শা/২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৪০

▎সর্বশেষ

ad