একনেকের শর্ত ভঙ্গ করে পিডি নিয়োগ

Ayesha Siddika | আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬ - ১১:৪৩:৫৩ এএম

ডেস্ক নিউজ : একনেকের শর্ত অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠন এখনো শেষ হয়নি। জারি হয়নি প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদনের আদেশ বা জিও। এর মধ্যেই ১ হাজার ৪৯২ কোটি টাকার বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পে তড়িঘড়ি প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রের তোয়াক্কা না করে দেওয়া নিয়োগ নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একনেকের শর্ত ভঙ্গ করে এভাবে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা নজির হয়ে থাকবে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, পরিপত্র অনুযায়ী একনেকে প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার পর জিও জারি হয়। জিও জারির এক মাসের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এই প্রকল্পে যা করা হয়েছে, তাতে পরিপত্র এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এসএম শাকিল আখতার যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান পরিপত্র অনুযায়ী জিও জারির আগে পিডি নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনা মানতে গিয়ে প্রকল্পের পিডি নিয়োগ দিতেই কয়েক মাস লেগে যায়। তাই পরিপত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পটি গত ২২ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হয়। সভায় সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে (জিওবি) ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। তবে প্রকল্পটি অনুমোদনের সঙ্গে চারটি শর্ত দেওয়া হয়।

একনেকের সিদ্ধান্তে প্রকল্পের মেয়াদ সংশোধন করে ডিপিপি পুনর্গঠন এবং তা পরিকল্পনা বিভাগের মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত পরামর্শক ব্যয়, গাড়ি ভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করতে বলা হয়। অতি প্রয়োজনীয় না হলে এসব ব্যয় প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব জনবলের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।

একনেকের সিদ্ধান্তের পর ৪ আগস্ট এনইসি-একনেক উইং থেকে প্রকল্পটি পুনর্গঠনের নির্দেশনা দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়। এতে একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়নকাল সংশোধন করে ডিপিপি পুনর্গঠন, প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র ও যথাস্থানে স্বাক্ষরসহ ১৪ কপি পুনর্গঠিত ডিপিপি পরিকল্পনা বিভাগের এনইসি-একনেক উইংয়ে পাঠাতে বলা হয়।

এদিকে একনেকের শর্ত অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ শেষ হওয়ার আগেই পিডি নিয়োগের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। ১১ আগস্ট পিডি নিয়োগের জন্য সভা আহ্বান করা হয়। পরদিন ১২ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর পরদিনই ১৩ আগস্ট এলজিইডির ঠাকুরগাঁও জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাসকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

অর্থাৎ একনেকের শর্ত অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠনের নির্দেশ জারির মাত্র সাত দিনের মাথায় পিডি নিয়োগের সভা এবং সভার পরদিনই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অথচ ২৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদনের জিও জারি হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত পরিপত্রের ২১.২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ৫০ কোটি টাকা বা তদূর্ধ্ব প্রাক্কলিত ব্যয়ের প্রকল্পে পূর্ণকালীন অভিজ্ঞ ও যোগ্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের বিষয়টি অবশ্যই পরিপালন করতে হবে। একই সঙ্গে উদ্যোগী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক প্রকল্প অনুমোদন সংক্রান্ত প্রশাসনিক আদেশ জারির এক মাসের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে।

পরিপত্রের এই বিধানের সঙ্গে বৃহত্তর দিনাজপুর প্রকল্পে পিডি নিয়োগের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, প্রকল্পটির প্রশাসনিক আদেশ বা জিও এখনো জারি হয়নি। অথচ পরিপত্রে প্রশাসনিক আদেশ জারির পর এক মাসের মধ্যে পিডি নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। ফলে জিও জারির আগেই পিডি নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পরিপত্রের ২১.২৭ অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নকারী কর্মকর্তাকে যথাসম্ভব প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। আর ২১.২৮ অনুচ্ছেদে একজন কর্মকর্তাকে কেবল একটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া দেননি।

 

 

আয়শা/২৮ অগাস্ট ২০২৬,/দুপুর ১১:৪৩

▎সর্বশেষ

ad