জাতীয় স্মৃতিসৌধে নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শ্রদ্ধা

Ayesha Siddika | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬ - ০৪:৩১:০১ পিএম

আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি : সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। শনিবার দুপুর ১টার দিকে তাঁরা স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এর আগে সকাল ১০টা ২২ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে তিনি স্মৃতিসৌধ এলাকা ত্যাগ করেন।

দুপুরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের মধ্যে প্রথমে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি ক্রান্তিলগ্নে জনগণের ভোটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। দীর্ঘ সময়ের স্বৈরাচারী শাসনের পর দেশকে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ছয় মাস আগে যে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যুক্ত করেছেন। দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করে বাংলাদেশকে একটি গতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং বিশ্বে দেশের সুনাম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই নতুন মন্ত্রিপরিষদের অন্যতম লক্ষ্য। পরে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। এ সময় তাঁর সঙ্গে দলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, আগামীকাল থেকে তিনি নতুন দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। দেশবাসীর দোয়া ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা পেলে দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা একে একে জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং সেখানে নিজেদের অনুভূতি লিপিবদ্ধ করেন। পরে দুপুর ২টার দিকে তাঁরা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতি ও নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্মৃতিসৌধ চত্বরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা পুরো সৌধ এলাকায় মহড়া দেন। পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়।

গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন আনু জানান, শুক্রবার রাত থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহন চলাচলেও বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঢাকা জেলা উত্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ডিবি, র‍্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক সদস্য মোতায়েন ছিলেন। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রেখে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।

 

 

আয়শা/২২ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৪:২৩

▎সর্বশেষ

ad