ব্রেকিং নিউজ
দর্শনই মানুষকে অন্য প্রাণী থেকে আলাদা করে হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে দেশ ছাড়তে মরিয়া আলোচিত এসপি হুমায়ুন ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা চালকের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: ইসি আনোয়ারুল আটকের সময় রাহুল গান্ধীকে পুলিশ সদস্যের বার্তা—‘মোদিকে হটাও’ পোশাক শিল্পের বিকাশে যা প্রয়োজন, সরকার তাই করবে : প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় ইসরায়েলে হামলা, হিজবুল্লাহকে প্রস্তুত থাকতে বললো ইরান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সরকারের প্রধান লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যেভাবে আফ্রিকার একটি বিশেষ গাছ হয়ে উঠল বিশ্বের চা-সেনসেশন

Anima Rakhi | আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ - ০৮:৪৬:৪৫ পিএম

লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : দক্ষিণ আফ্রিকার সিডারবার্গ পর্বতমালার পাথুরে উপত্যকার বিশেষ উর্বরা ভূখণ্ডেই কেবল প্রাকৃতিক নিয়মে জন্মায় ‘রুইবোস’ নামক একটি বিশেষ উদ্ভিদ। দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠী ঔষধি পানীয় হিসেবে এই পাতার ব্যবহার করে আসলেও আফ্রিকানদের প্রিয় ‘রেড বুশ’-এর এই পানীয়টি এখন বিশ্বজুড়ে এক নতুন আভিজাত্য লাভ করেছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা ও বৈচিত্র্যময় স্বাদের টানে বর্তমানে বিশ্ববাজারে ব্যাপকভাবে বেড়ে চলেছে দক্ষিণ আফ্রিকার এই ঐতিহ্যবাহী চায়ের চাহিদা।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে বিশ্বে রুইবোস চায়েরে ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি রেকর্ড পরিমাণ রপ্তানিও নিশ্চিত হয়েছে। প্রাকৃতিকভাব ক্যাফেইনমুক্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে কফি ও সাধারণ কালো চায়ের বিকল্প হিসেবে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষদের প্রথম পছন্দে পরিণত হচ্ছে এই পানীয়টি। হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো এবং ক্যান্সারের সম্ভাবনা দূর করার মতো সম্ভাব্য ভেষজ গুণাবলির কারণেও এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিশেষ করে জাপানের বাজারে এই চায়ের চাহিদা এখন তুঙ্গে, যেখানে সাধারণ পানীয়ের পাশাপাশি প্রসাধন সামগ্রীতেও এর ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে আজকের এই আন্তর্জাতিক সফলতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। স্থানীয় সান ও খোই আদিবাসীদের হাজার বছরের ঐতিহ্যগত জ্ঞান থেকে উদ্ভূত এই চা ব্যবসা একটা সময় পর্যন্ত পুরোপুরি বর্ণবাদী শাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৯ সালে একটি ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর আয়ের একটি অংশ এসব আদিবাসী সম্প্রদায়ের তহবিলে দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। পরবর্তীতে শ্যাম্পেন বা গোরগনজোলা চিজের মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রুইবোসকে ‘প্রোটেক্টেড ডেজিগনেশন অব অরিজিন’মর্যাদা প্রদান করে। 

আন্তর্জাতিক বাজারে তুমুল চাহিদা থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এখন এই শিল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা ও তীব্র খরার কারণে অনেক সময় উৎপাদন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কফি বা অন্যান্য চায়ের মতো গুদামজাত করার পর রুইবোসের গুণমান নষ্ট হয় না বলে খরা বা উৎপাদনে ঘাটতির মধ্যেও এটি দীর্ঘদিন বাজার ধরে রাখতে সক্ষম। 

সূত্র: সিএনএন

কিউটিভি/অনিমা/০৬ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ৮:৪৬

▎সর্বশেষ

ad