ব্রেকিং নিউজ
ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা চালকের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: ইসি আনোয়ারুল আটকের সময় রাহুল গান্ধীকে পুলিশ সদস্যের বার্তা—‘মোদিকে হটাও’ পোশাক শিল্পের বিকাশে যা প্রয়োজন, সরকার তাই করবে : প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় ইসরায়েলে হামলা, হিজবুল্লাহকে প্রস্তুত থাকতে বললো ইরান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সরকারের প্রধান লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইট উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য : মির্জা ফখরুল

আজীবন পাপ করে ‘কিফল’ মুহূর্তেই ক্ষমা পেলেন যেভাবে

Ayesha Siddika | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ - ০৪:৫৩:৫২ পিএম

ডেস্ক নিউজ : মানুষ মাত্রই ভুল করে। কেউ পাপে ডুবে থাকে বছরের পর বছর, আবার আল্লাহর রহমতের একটি মুহূর্ত তার পুরো জীবনকে বদলে দিতে পারে। ইসলাম আমাদের শেখায়, যত বড় পাপীই হোক না কেন, যদি সে আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তবে তার রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না।

আজকের ঘটনাটি বনী ইসরাইলের এক ব্যক্তি ‘কিফল’-এর, যিনি ছিলেন সীমাহীন গুনাহে লিপ্ত। কিন্তু একটি ঘটনার মাধ্যমে তার হৃদয়ে এমন পরিবর্তন আসে যে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন। এটি আল্লাহর অসীম দয়া, তওবার মর্যাদা এবং সমাজে জাকাত প্রতিষ্ঠার গুরুত্বের এক অনন্য শিক্ষা।

কিফল নামের সেই ব্যক্তির গল্প

হাদিসে এসেছে, বনী ইসরাইলের মধ্যে একজন লোক ছিলেন, তার নাম ছিল কিফল। তিনি ছিলেন ধনী, কিন্তু অত্যন্ত গুনাহগার ও বদঅভ্যাসের মানুষ। ভালো কোনো কাজ করতেন না।

একদিন তিনি এক সুন্দরী নারীকে দেখে নিজের কাছে ডেকে পাঠালেন। নারীকে তিনি একশত দিনার (সোনার মুদ্রা) দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন, শর্ত ছিল— সে তার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হবে।

নারীটি চরম অভাব-অনটনের কারণে বাধ্য হয়ে রাজি হলো।

ঘটনার মোড় ঘুরে যায়

যখন নারীটি তার কাছে বসল, তখন সে হঠাৎ কাঁদতে শুরু করল।

কিফল অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল—

‘তুমি কাঁদছো কেন? আমি তো তোমাকে জোর করিনি।’

নারীটি বলল—

‘আল্লাহর কসম! আমি আগে কখনো এ কাজ করিনি। অভাব-অনটনই আমাকে আজ এখানে নিয়ে এসেছে।’

এই কথাগুলো কিফলের হৃদয়কে নাড়া দিল।

তার অন্তর কেঁপে উঠল। সে সঙ্গে সঙ্গে নারীটিকে ছেড়ে দিল এবং বলল—

‘তুমি চলে যাও। আমি তোমার কোনো ক্ষতি করব না। এই একশত দিনার তোমারই থাকল। আর আল্লাহর কসম! আজকের পর আমি কখনো আল্লাহর অবাধ্য হব না।’

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

সেই রাতেই কিফলের মৃত্যু হয়।

পরদিন সকালে লোকেরা তার দরজায় লেখা দেখতে পেল—

إِنَّ اللَّهَ قَدْ غَفَرَ لِلْكِفْلِ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কিফলকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ (মুসনাদে আহমদ ২৩৪০৮, সহিহুল জামে’ ৪৫৩০)

কুরআনের আলোকে তাওবার মর্যাদা—

১. আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করতে সক্ষম

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

‘বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ৫৩)

২. আন্তরিক তওবা করলে আল্লাহ পাপকে নেকিতে পরিণত করেন

إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

‘তবে যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে— আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলোকে ভালো কাজে পরিবর্তন করে দেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আল-ফুরকান: আয়াত ৭০)

হাদিসের শিক্ষা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ

‘যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে আন্তরিকভাবে তওবা করে, সে এমন হয়ে যায় যেন তার কোনো গুনাহই ছিল না।’ (ইবনে মাজাহ ৪২৫০)

এই ঘটনা আমাদের কী শিক্ষা দেয়?

  • আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হওয়া যাবে না।
  • একটি আন্তরিক তওবা মানুষের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।
  • অভাব-অনটন মানুষকে অনেক সময় পাপের দিকে ঠেলে দেয়; তাই জাকাত ও সমাজকল্যাণের গুরুত্ব অপরিসীম।
  • অন্যের উপদেশও কখনো একটি হৃদয়কে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনতে পারে।
  • মৃত্যুর আগে তওবার সুযোগ থাকতেই আল্লাহর কাছে ফিরে আসা উচিত।

কিফলের ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— মানুষের অতীত যত অন্ধকারই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত। আন্তরিক অনুতাপ, গুনাহ থেকে ফিরে আসার দৃঢ় সংকল্প এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা একজন মানুষকে এমন মর্যাদায় পৌঁছে দিতে পারে, যা সে কখনো কল্পনাও করেনি।

তাই আসুন, আমরা অতীতের গুনাহ নিয়ে হতাশ না হয়ে আজই আল্লাহর দরবারে খাঁটি তওবা করি। কারণ, কে জানে— হয়তো এই তওবাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সিদ্ধান্ত হয়ে উঠবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে খাঁটি তওবা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

 

 

আয়শা/২৫ জুলাই ২০২৬,/বিকাল ৪:৫০

▎সর্বশেষ

ad