
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দীর্ঘ চার দশকের অচলাবস্থা ভেঙে আজ ওয়াশিংটনে সরাসরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইসরায়েল ও লেবাননের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক সভায় ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব করবেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এবং লেবাননের পক্ষে থাকবেন রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ।
১৯৮০-র দশকের পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো প্রকাশ্য এবং উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বেঁধে দেওয়া দুটি মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে তেল আবিব। যার একটি হলো হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং অন্যটি লেবাননের সঙ্গে একটি স্থায়ী ও ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর। তবে এই আলোচনার সফলতা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। লেবানন শুরুতেই শর্ত দিয়েছে যে, আলোচনার আগে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। অন্যদিকে, ইসরায়েল সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলাকালীনই আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।
বর্তমানে মার্কিন চাপের মুখে ইসরায়েল বৈরুত এবং বেকা উপত্যকায় তাদের হামলার তীব্রতা ও পরিধি কিছুটা কমিয়ে আনলেও দক্ষিণ লেবাননে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এখন প্রতিটি হামলার জন্য রাজনৈতিক স্তরের অনুমোদনের প্রয়োজন হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা কার্যকর হতে ব্যর্থ হয়। এবার নেতানিয়াহু আরও শক্তিশালী প্রতিশ্রুতি এবং লেবাননের সঙ্গে সম্পর্কের আমূল পরিবর্তন চাইছেন। তবে ইসরায়েলের ডানপন্থী সরকারের অনেক মন্ত্রী এখনো যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বিপক্ষে এবং তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি স্থায়ী ‘নিরাপত্তা বাফার জোন’ গড়ে তোলার দাবি জানাচ্ছেন।
মূলত ওয়াশিংটনের ক্রমাগত চাপের মুখেই নেতানিয়াহু এই আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র: সিএনএন
অনিমা/১৪ এপ্রিল ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:১৪





