
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফের দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। তেলের জন্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাম্পে পাম্পে ভিড় করছেন যানবাহন চালক ও মালিকরা। তেল সরবরাহ করতে না পারায় অনেক পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়। ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেন পাম্প মালিকরা। তবে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তেলের কোনো সংকট নেই। সবাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার কারণে পাম্পগুলোতে তেল সংকট হয়েছে।
তেল নিয়ে তেলেসমাতি এদেশে নতুন কোন ঘটনা নয়। এর আগেও তেল সহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ফায়দা লুটেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এবারেও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অজুহাতে দেশে চলছে তেল নিয়ে তেলেসমাতি।
সমস্যাটা তেলের স্টক বা সরবরাহ নিয়ে নয়। সংকট সৃষ্টি হয়েছে আতংকের মাঝে। গুজব ছড়ানো হয়েছে তেল পাওয়া যাবেনা। কিন্তু সরকার বারবার ঘোষণা দিয়েছে -দেশে তেলের কোন সংকট নেই।
অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নয়। নিকট অতীতে গুজব ছড়ানো হলো – দেশে লবন পাওয়া যাবে না। আর যাবে কোথায় ? ১ কেজি লবন দিয়ে যার পুরো মাস চলে যায় সে কিনে ফেলল ৮/১০ কেজি। এভাবে সারাদেশে অতিরিক্ত লবন ক্রয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। ঠিক এমুহুর্তে জ্বালানি তেল নিয়ে গুজব বিভ্রাটে সারাদেশ। সকলে একটু ধৈর্য ধারণ করলেই কিন্তু সব ঠিক হয়ে যায়।
অতিমাত্রায় সজাগ হয়ে সকলে যদি বেশিবেশি করে তেল কিনে রাখে তাহলে এমনিতেই সংকট সৃষ্টি হবে। যতই তেল পাইপলাইনে থাকুকনা কেন ? এজন্যে করণীয় একটিই -গুজবে কান না দেয়া। তেল ছিল, তেল আছে, তেল পাওয়া যাবেই এটা বিশ্বাস রাখতে হবে।
লেখকঃ লুৎফর রহমান একজন রাজনীতিবিদ ও লেখক। তিনি নিয়মিত লেখালেখির পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক নিউজ মিডিয়ার সম্পাদক ও প্রকাশক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র লুৎফর রহমান ৮০ এর দশকের স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে চারটি রাজনৈতিক উপন্যাস লিখেছেন, যা দেশ বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জীবনের খন্ডচিত্র এঁকে তিনি এখন ব্যাপক পরিচিত পাঠক মহলে। গঠনমূলক ও ইতিবাচক লেখনীতে তিনি এক নতুন মাত্রা সংযোজন করতে সক্ষম হয়েছেন।
বিপুল/২৭.০৩.২০২৬/রাত ১০.০২






