হরমুজ প্রণালী খুলতে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সঙ্গে জোট গঠনের প্রস্তুতি আরব আমিরাতের

Ayesha Siddika | আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ - ০৩:৫৯:৩৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, আরব আমিরাত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এমন একটি প্রস্তাবের জন্য তদবির করছে যা এই ধরনের পদক্ষেপকে অনুমোদন দিতে পারে। প্রতিবেদনে আমিরাতের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, দেশটির কূটনীতিকরা বলপূর্বক প্রণালীটি খোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ ও এশিয়ার সামরিক শক্তিগুলোকে একটি জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি বাহরাইন এই মার্কিন প্রস্তাবটির পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, উপসাগরীয় দেশগুলো খাদ্যসহ রপ্তানি ও আমদানি উভয়ের জন্যই হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। উপসাগরীয় অঞ্চলের সিংহভাগ তেল—যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ—এই প্রণালী দিয়েই প্রবাহিত হয়। কিন্তু মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিশোধ হিসেবে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, যা বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত করছে এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

আমিরাতের কর্মকর্তারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন যে, প্রণালীটি সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে কীভাবে একটি ‘সামরিক ভূমিকা’ পালন করা যায়, তা সংযুক্ত আরব আমিরাত সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে। 
এর মধ্যে রয়েছে প্রণালীটি থেকে ইরানি মাইন অপসারণে সহায়তা এবং অন্যান্য সহায়ক পরিষেবা প্রদানের প্রচেষ্টা। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই নতুন দৃঢ় পদক্ষেপ দেশটির কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন, কারণ দেশটির বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাই দীর্ঘদিন ধরে ইরানি শাসনব্যবস্থাকে অর্থায়ন করে আসছে। 
 
কর্মকর্তারা বলেছেন যে, সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোও এখন ইরানের বিরুদ্ধে যাচ্ছে এবং তারা চায় যে ইসলামী শাসনব্যবস্থাটি অকার্যকর বা উৎখাত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলতে থাকুক, যদিও তারা তাদের সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত থেকেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলার পর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করে হামলা করবে বলে জানায়। 

এদিকে, যুদ্ধ চলার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানিদের দেশে প্রবেশ বা ট্রানজিট করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বুধবার তিনটি প্রধান বিমান সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। দূরপাল্লার বিমান সংস্থা এমিরেটস ও ইতিহাদ এবং স্বল্প খরচের বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাই তাদের ওয়েবসাইটে এই ঘোষণা দেয়।
 
অন্যদিকে, তেহরানকে মোকাবেলা করার জন্য তার দেশ এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে নতুন জোট গঠন করছে বলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবির পরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুদ্ধে যোগদানের খবরটি আসে।ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে মন্ত্রীদের বলেছেন যে কিছু ‘আরব দেশ’ আমাদের পক্ষে একসঙ্গে যুদ্ধ করার কথা বলছে।

‘অতীতে আমি আরব নেতাদের সঙ্গে গোপনে কথা বলেছি। নেতানিয়াহু বলেছেন। আমি তাদের বলেছিলাম, ইরান সুযোগ পেলেই তোমাদের জয় করবে এবং তোমাদের রাজ্যগুলো উৎখাত করবে। তখন তারা বিষয়টি ঠিকমতো বোঝেনি। আজ তারা বোঝে।’ বলেন তিনি। 

এর আগে সৌদি আরব হুমকি দিয়েছে যে, তেহরান যদি দেশটিতে হামলা বন্ধ না করে তবে তারাও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। দেশটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর মন্তব্যে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ১৯ মার্চ ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন যে, তার দেশ এবং এর আঞ্চলিক অংশীদারদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা ও সামর্থ্য রয়েছে যা তারা কাজে লাগাতে পারে।
ইরান প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে এবং হরমুজ প্রণালীর গতি রোধ করে এর তেল-নির্ভর অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করে।
 
সূত্র: এনডিটিভি

 

আয়শা/০১ এপ্রিল ২০২৬,/বিকাল ৩:৫৯

▎সর্বশেষ

ad