
বিনোদন ডেস্ক : অভিনয়ের পাশাপাশি ‘মেড ইন হেভেন’খ্যাত অভিনেত্রী শোভিতা ধূলিপালা অনুরাগীমহলে বেশ জনপ্রিয় তার সুন্দর ত্বক ও ঝলমলে চুলের জন্য। দামি প্রসাধনী নয়, নিজের রূপচর্চার জন্য এতদিন ধরে অভিনেত্রী প্রাকৃতিক উপাদানের ওপরেই ভরসা করে এসেছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শোভিতা তার দৈনন্দিন রূপচর্চার সাধারণ কিন্তু ভীষণ উপকারী ঘরোয়া কিছু টোটকার কথা শেয়ার করে নিয়েছেন। শোভিতা ধূলিপালা মনে করেন, তার সৌন্দর্যের চাবিকাঠি হলো প্রাকৃতিক উপাদান। দামি প্রসাধনী নয়, তার ত্বক ও চুলের পরিচর্যা এসেছে প্রাকৃতিক উপাদান থেকে। তিনি নিয়ম করে চুলে তেল ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষ করে, যখন তার মাইগ্রেনের সমস্যায় হয়, তখন এই টোটকা দারুণ কাজ করে।
নারিকেল তেল মাখলে স্নায়ু শান্ত হয় এবং যন্ত্রণা থেকে অনেকটাই আরাম পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন শোভিতা ধূলিপালা। অভিনেত্রী বলেন, আমি সামান্য নারিকেল তেলের সঙ্গে পানি মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ভরে রাখি। এটি চুলে স্প্রে করে চুল সেট করি। শুধু পানি দিলে চুল রুক্ষ হয়ে যায়। তাই নারিকেল তেলের মিশ্রণটি চুলকে সুন্দরভাবে সেট রাখতে সাহায্য করে। এই টোটকা আমার দারুণ প্রিয়।
শোভিতার রূপরুটিনে বিশেষ জায়গা জুড়ে রয়েছে ঘি। নিয়ম করে রোজ সকালে ঠোঁটে ঘি লাগান শোভিতা। এ ছাড়া ত্বকের যে কোনো সমস্যায় নারিকেল তেলের ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করেন তিনি। ঘিয়ে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ‘এ’ থাকে। খুব অল্প পরিমাণে লাগালে এটি ত্বকের প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার মেরামত করতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে নারিকেল তেল চুলের গোড়ায় পৌঁছে যায় দ্রুত। এটি চুলের প্রোটিন কমে যাওয়া রোধ এবং শুষ্কতা দূর করে থাকে। শ্যাম্পু করার আগে ‘প্রি-ওয়াশ’ ট্রিটমেন্ট হিসেবে এটি খুব ভালো কাজ করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারিকেল তেল চুলে পুষ্টি জোগালে বা উজ্জ্বলতা বাড়ালেও হরমোনের সমস্যা, মানসিক চাপ কিংবা পুষ্টির অভাবের কারণে হওয়া চুল পড়ার সমাধান করতে পারে না।
সে কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাওয়া ত্বকের সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। শরীর ডিহাইড্রেটেড থাকলে ত্বক ফ্যাকাসে মনে হতে পারে। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি খেলেই পিগমেন্টেশন, ব্রণ কিংবা বলিরেখা দূর হয়ে যায় না। ত্বকের জেল্লা নির্ভর করে ঘুম, রোদ থেকে সুরক্ষা এবং পুষ্টির ওপর।
জেনে রাখা ভালো, প্রাকৃতিক সব উপাদান সবার জন্য উপকারী নাও হতে পারে। অনেকের নির্দিষ্ট কিছু তেল ব্যবহারে কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস বা ত্বকের অ্যালার্জি হয়। বিশেষ করে যাদের খুশকি, ফাঙ্গাল অ্যাকনে রয়েছে কিংবা যাদের ত্বক অতিরিক্ত স্পর্শকাতর, তাদের তেল ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আয়শা/০৭ মার্চ ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৪৫






