
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে শুরু হওয়া ব্যাপকভিত্তিক সামরিক অভিযানের গতি কমানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, তারা এই অভিযানকে ‘অপ্রতিরোধ্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এবং বাস্তবেও তারা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানি শাসনের হুমকি নির্মূল করে আমেরিকানদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এই অভিযানের অংশ হিসেবে গত ৩৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় সামরিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিশৌরির হোয়াইটম্যান বিমান ঘাঁটি থেকে উড়ে আসা বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের ভূগর্ভস্থ ব্যালিস্টিক মিসাইল সংরক্ষাণাগারগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ইরানজুড়ে ১ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম। এর মধ্যে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর সদর দপ্তর, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইট এবং ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিন উল্লেখযোগ্য।
তবে এই অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইরানের পাল্টা হামলায় অন্তত তিন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং আরও হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার ও গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কিছু সাবেক কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সেন্টকমের সাবেক কমান্ডার জেনারেল জোসেফ ভোটেল মনে করেন, এই অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত সম্পদ ও প্রস্তুতি রয়েছে।
তিনি জানান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যতদিন নির্দেশ দেবেন, ততদিন এই সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার সক্ষমতা মার্কিন বাহিনীর আছে। এদিকে ইরানও থেমে নেই। তারা ইসরাইল, সাইপ্রাসের ব্রিটিশ ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর (GCC) বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
এই সামরিক অভিযানের পর আজ সোমবার (২ মার্চ) বিশ্ববাজারে প্রথম লেনদেন শুরু হচ্ছে, যা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম অস্থিরতা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিদেশে অবস্থানরত আমেরিকানদের ওপর আত্মঘাতী হামলা বা অন্য কোনো প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কা করছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এফবিআই কাউন্টার-টেররিজম টিমগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আল আরাবিয়া।
আয়শা/০২ মার্চ ২০২৬,/দুপুর ২:৪৪





