
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ার দীর্ঘ ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মধ্যে সম্প্রতি একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মেসোপটেমিয়া সমভূমি এবং এর পার্শ্ববর্তী পার্বত্য অঞ্চলের আদি অধিবাসী এই কুর্দিরা বর্তমানে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব, সিরিয়ার উত্তর-পূর্ব, ইরাকের উত্তর, ইরানের উত্তর-পশ্চিম এবং আর্মেনিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে ছড়িয়ে রয়েছে। এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলটি সম্মিলিতভাবে ‘কুর্দিস্তান’ নামে পরিচিত হলেও ঐতিহাসিকভাবে তাদের নিজস্ব কোনো রাষ্ট্র নেই। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কুর্দিদের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি। এদের বড় একটি অংশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে জার্মানিতে বসবাস করছে।
কুর্দিরা মূলত ইন্দো-ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীর ইরানি শাখার অন্তর্ভুক্ত এবং তারা কুর্দি ভাষার বিভিন্ন উপভাষায় কথা বলে। ধর্মীয়ভাবে এদের অধিকাংশ সুন্নি মুসলিম হলেও শিয়া, আলেভি, ইয়াজিদি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কুর্দিও রয়েছে।
কুর্দিদের রাষ্ট্রহীন হওয়ার ইতিহাস শুরু হয় ১৫০০-এর দশকে অটোমান সাম্রাজ্যের বিস্তারের সময় থেকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ১৯২০ সালের ‘সেভ্রেস চুক্তিতে’ একটি স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান গঠনের প্রস্তাব থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। পরবর্তীতে ১৯২৩ সালের ‘লোজান চুক্তিতে’ তুরস্কের আপত্তির মুখে কুর্দিস্তানের ধারণাটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়। এরপর থেকে গত এক শতাব্দী ধরে কুর্দিরা বারবার রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা করলেও ভূ-রাজনীতি ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরোধিতায় তা সফল হয়নি।
সিরিয়ায় কুর্দিরা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ। দশকের পর দশক ধরে তারা সেখানে প্রান্তিকীকরণ ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। ১৯৬২ সালের এক বিতর্কিত আদমশুমারির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কুর্দি তাদের নাগরিকত্ব হারায়।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাআ একটি ডিক্রি জারি করে কুর্দি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দিয়েছেন এবং নাগরিকত্বহীন কুর্দিদের পুনরায় নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া কুর্দিদের উৎসব ‘নওরোজ’-কে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যান্য দেশেও কুর্দিদের পরিস্থিতি বেশ জটিল। তুরস্কে কুর্দিরা মোট জনসংখ্যার ১৯ শতাংশ হলেও দীর্ঘদিন ধরে তাদের সংস্কৃতি ও ভাষা নিষিদ্ধ ছিল। সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠী পিকেকে-র সঙ্গে তুর্কি বাহিনীর চার দশকের লড়াইয়ে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ইরানে কুর্দিরা জনসংখ্যার ১০ শতাংশের মতো হলেও ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে তেহরান সরকারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘ সংঘাত রয়েছে। অন্যদিকে ইরাকে কুর্দিরা জনসংখ্যার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তারা সেখানে সবচেয়ে বেশি অধিকার ভোগ করে। উত্তর ইরাকে তাদের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত সরকার (কেআরজি) থাকলেও ২০১৭ সালে স্বাধীনতার গণভোটের পর কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
সূত্র: আল জাজিরা
কিউএনবি/আয়শা/২০ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ১১:২২






