
ডেস্ক নিউজ : গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সব স্টেকহোল্ডারসহ এনজিও কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
গণভোট ছাড়া সংস্কারের কোনো বিকল্প পথ নেই জানিয়ে শারমীন এস মুরশিদ বলেন, রাতের অন্ধকারে ভোট বন্ধ করতে চাই, গুম, খুন বন্ধ করতে চাই, আইনের শাসন চাই। তাহলে আমাদের বিপুল অবকাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। এই জন্য জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে নতুন করে বাংলাদেশ গড়তে হবে। সুষ্ঠু গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট উপহার দিতে গণভোটের প্রচার-প্রচারণা তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ করে দেশের ৫২ শতাংশ নারীর কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মেসেজ সহজে বুঝানোর জন্য যার যার আঞ্চলিক ভাষায় সরকারের পাশাপাশি সমাজে সব স্টেকহোল্ডার, এনজিও ফাউন্ডেশন কর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের নিরাপদ ও সম্মানজনক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আমাদের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সভায় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজসহ বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জুলাই যোদ্ধা, এনজিও কর্মী ও গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ হ্যাঁ ভোটের প্রচার-প্রচারণা বিষয়ের ওপর চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
নারী ও শিশু উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন ও গণভোট চলাকালীন সময়ে সমাজের ঝুঁকিপূর্ণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, নারী ভোটারদের নিরাপদ অংশগ্রহণ, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের সহায়তা প্রদানসহ সার্বিক সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে দুই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ ভোটারদের জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা গ্রহণ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীভুক্ত জনগোষ্ঠীর সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনকালীন সময়ে জরুরি সহায়তা প্রদানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপদেষ্টা জানান, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা, ভোটকেন্দ্রে নারী ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, সম্ভাব্য সহিংসতা বা হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা এবং মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ সামাজিক নিরাপত্তা ভাতাভোগী মোবাইল গ্রাহককে ‘গণভোটে ভোট দিন, দেশ গঠনে অংশ নিন’ এ শ্লোগান ডিজিটাল ও মোবাইল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এসএমএস প্রদানের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এছাড়াও ১০০টি সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র হতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণকে গণভোট বিষয়ে সচেতনতামূলক ব্রিফ এবং তথ্যাদি সরবরাহ করা হচ্ছে। ৭২ হাজার নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং ৪ হাজারের অধিক ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ড প্রাপ্ত এতিমখানাকে এই সচেতনতা কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মনিটরিং কমিটি এবং ১০টি বিভাগীয় মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।
এর আগে বিকেলে তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন আয়োজিত গণভোট প্রচার এবং ভোটার উদ্বুদ্ধ করনের উদ্দেশ্যে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
আয়শা/২০ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ১১:২২






