
স্পোর্টস ডেস্ক : ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে অসংখ্য রেকর্ড তৈরি হয়েছে, তবে সব রেকর্ডই সমান নয়। কিছু কীর্তি এমন, যা সময়ের সঙ্গে আরও মজবুত হয়ে উঠেছে এবং যুগের পর যুগ ক্রিকেট সংস্কৃতির অংশ হয়ে রয়েছে। আধুনিক ক্রিকেটের ফাস্ট-পেস, ফরম্যাটের পরিবর্তন, প্রযুক্তি ও খেলোয়াড়দের ওয়ার্কলোডের কারণে এই রেকর্ডগুলো ভাঙা বা কাছাকাছি পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের টেস্ট গড় ৯৯.৯৪, যা এখনও মাইলফলক। শেষ ইনিংসে মাত্র চার রান করলেই গড় ১০০ হতো, কিন্তু ইতিহাস থেমে গেছে ৯৯.৯৪-এ। আধুনিক ক্রিকেটে এমন গড় অর্জন করা প্রায় অসম্ভব।
২) জিম লেকারের এক ম্যাচে ১৯ উইকেট
১৯৫৬ সালের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের জিম লেকার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচে নেন ১৯ উইকেট—এক ইনিংসে ৯, আরেক ইনিংসে ১০। আজকের ক্রিকেটে বোলিং আক্রমণ ভাগ করে নেওয়া হয়, তাই এমন আধিপত্য কল্পনাতীত।
৩) মুত্তিয়া মুরালিধরনের ৮০০ টেস্ট উইকেট
শ্রীলঙ্কার স্পিন কিং মুরালিধরন টেস্টে ৮০০ উইকেটের কীর্তি গড়েছেন। শেন ওয়ার্ন থেমেছেন ৭০৮-এ। রোটেশন নীতি ও তিন ফরম্যাটের চাপের যুগে এত দীর্ঘ সময় ধরে উইকেট নেওয়া প্রায় অসম্ভব।
৪) শ্রীলঙ্কার ৯৫২-৬—টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস
১৯৯৭ সালে কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে ৯৫২ রান করে। সনাথ জয়াসুরিয়া ও অরোশান মাহনার যুগল জুটি ধৈর্য ও আধিপত্যের প্রতীক। আজকের ফলমুখী টেস্টে এমন ইনিংস স্বপ্নের মতো।
৫) জ্যাক হবসের ১৯৯টি ফার্স্ট-ক্লাস সেঞ্চুরি
ইংল্যান্ডের জ্যাক হবসের ১৯৯টি ফার্স্ট-ক্লাস শতক, যা আধুনিক ক্রিকেটে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ফার্স্ট-ক্লাস ম্যাচ কমে যাওয়ায় এই রেকর্ড ভাঙা নেই বরং কাছে পৌঁছানোও কঠিন।
৬) দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৩৪ রান তাড়া করে ঐতিহাসিক জয়
২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রান তাড়া করে জয়লাভ করে। ওয়ানডে ক্রিকেটে মানসিক চাপ, গতি এবং টেকনিকের এই ম্যাচ আজও অতুলনীয়।
এই রেকর্ডগুলো শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, এগুলো সময়, প্রেক্ষাপট ও যুগের গল্প বয়ে আনে। নতুন তারকা আসবে, ফরম্যাট বদলাবে, নিয়ম বদলাবে—কিন্তু এই কিংবদন্তি কীর্তিগুলো ইতিহাসের মুকুট হয়ে থাকবে।
আয়শা/২০ জানুয়ারী ২০২৬,/দুপুর ২:৪০






