
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দ্বীপটির পিটুফিক স্পেস বেসে সামরিক বিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
উত্তর-পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডে অবস্থিত পিটুফিক স্পেস বেস—যা আগে থুলে এয়ার বেস নামে পরিচিত ছিল। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা।
বেসটি মূলত ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন ও কানাডীয় যৌথ প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘নোরাড’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকা রক্ষার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সেখানে বিমান পাঠানো হয়েছে।
সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, এই মোতায়েন কোনো আকস্মিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা পরিকল্পনারই অংশ।
এই সামরিক তৎপরতার বিষয়ে ডেনমার্ক সরকারের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষকেও আগে থেকে অবহিত করা হয়েছে বলে নোরাড দাবি করেছে।
তবে সময়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান, বিপুল খনিজ সম্পদ এবং এই অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে অত্যন্ত আগ্রহী। এর আগে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে শুল্ক আরোপ ও বলপ্রয়োগের হুমকি এবং অন্যদিকে সামরিক বিমানের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যদিও নোরাড একে রুটিন মহড়া বলছে, তবে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আর্কটিক অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এই পদক্ষেপ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড এখনো তাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অনড় অবস্থানে রয়েছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
আয়শা/২০ জানুয়ারী ২০২৬,/দুপুর ২:৫৫





