ডেস্ক নিউজ : রাব্বে কারীম কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো, যেমন ফরজ করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে করে তোমরা তাকওয়ার গুণাবলী অর্জন করতে পারো। (সুরা বাকারা-১৮৩)
উক্ত আয়াতের দ্বারা বোঝা গেলো, বান্দার ওপর রোজা ফরজ। রোজা তার রাখতে হবে। কুরআনের আয়াত বা নস দ্বারা তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেলো সাওম বা রোজা। সঙ্গে সঙ্গে এ রোজা রাখার ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। বান্দা অনার্থক উপবাস থাকবে? নাকি এ উপবাসের পেছনে রয়েছে মহৎগুন? এ মহৎগুনটা কী? মাওলায়ে কারীম তো কোনো আদেশ করেন না, উদ্দেশ্যহীনভাবে। আমরা আয়াতের শেষাংশে দেখতে পাই রাব্বে কারীম বলেছেন,
যাতে করে তোমরা তাকওয়ার গুণাবলী অর্জন করতে পারো। আয়াতের শেষাংশ পড়ে বোঝতে পারি, তাকওয়া হাসিল বা অর্জন করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন। তাকওয়ার অর্থ হলো, আল্লাহর ভয়-ভীতি অর্জন করা। একটা মানুষ যখন আল্লাহর ভয় নিজের ভেতরে আনতে পারবে, তখনি সে মুত্তাকি হতে পারবে। আর হতে পারবে আল্লাহর নৈকট্যবান্দাদের অন্তর্ভূক্ত। আল্লাহর ভয় যখন একজন মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেবে, তখন তার দ্বারা কোনো পাপাচার হতে পারে না। তার দ্বারা হতে পারে না সমাজের কোনো অন্যায় কাজ।
একজন মানুষ যখন পরিশুদ্ধ আত্মার অধিকারী হতে চাইবে, তখন সমস্ত গোনাহ ও অপরাধ থেকে অন্তর মুক্ত হতে হবে। মানুষের আত্মিক প্রশান্তি, উন্নতি ও বিকাশ সাধনের জন্যও আত্মশুদ্ধি প্রয়োজন অপরিসীম। এ জন্য একজন মানুষ ঈমান আনার পর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো তাকওয়া বা খোদাভীরুতার। কেননা, এ খোদাভীরুতার কারণেই মানুষ অন্যায়, অবিচার থেকে দূরে থাকে। একজন মানুষের ভেতর যতো বেশি খোদা ভীরুতা থাকবে, তার দ্বারা তত বেশি ভালো কাজ হবে। তার দ্বারা কোনো অন্যায় কাজ হতেই পারে না। কারো সম্পদ লুণ্ঠিত হতে পারে না। কারো মাল চুরি হতে পারে না।
একজন মানুষ রোজা বা সাওম পালন করবে। আর সে সাওম বা রোজার উদ্দেশ্যই হলো তাকওয়া অর্জন। ত্রিশটি রোজার সরমর্ম হলো, তাকওয়া অর্জন। অতএব আমাকে বোঝতে হবে, তাকওয়া বা খোদা ভীরুতা কোনো সাধারণ কথা নয়। হযরত উমর রাযি. উবাই ইবনে কাবকে প্রশ্ন করেন, তাকওয়া আসলে কী? উবাই পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘আপনি কখনো কণ্টকাকীর্ণ জঙ্গল অতিক্রম করেছেন?
কুরআনে কারীমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন,
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে (তদ্রুপ) ভয় করো যেরূপ তাঁকে ভয় করা উচিত এবং তোমরা এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে যে, তোমরা মুসলমান। (সুরা ইমরান-১০২)
অন্য আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন,
এখানে এক নম্বরে বলা হয়েছে, আল্লাহকে ভয় করার জন্য। দ্বিতীয় বলা হয়েছে, সত্যপরায়ণদের সঙ্গী হতে। তাদের মতো কাজ করতে। আমাদের দেশে একটি প্রবাদবাক্য আছে, সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। কঠিন একটা বাস্তব ও নিরেট কথা। জীবনকে বদলে ও সুন্দর জীবন পেতে সুন্দর মনের মানুষের সঙ্গলাভ করা আবশ্যক। হাদিসে আছে, যে যার সঙ্গে চলবে, কাল হাশরে সে তার সঙ্গে হাশরের মাঠে উঠবে।
আত্মশুদ্ধির প্রধান উপায় হলো, খারাপ কাজ ত্যাগ করা। কুচিন্তা, কুঅভ্যাস বর্জন করা। সবসময় সৎচিন্তা ও সৎকর্ম, নৈতিক ও মানবিক আদর্শে স্বীয় চরিত্রকে গড়ে তোলা। আর এভাবেই আত্মশুদ্ধি অর্জিত হয়। আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক জিনিস পরিষ্কার করার যন্ত্র আছে, আর অন্তর পরিষ্কার করার যন্ত্র হলো, জিকির (বায়হাকী)।
কিউটিভি/আয়শা/০৩ মার্চ ২০২৫,/বিকাল ৫:০৮
