ব্রেকিং নিউজ
যেকোনো সময় ইসরায়েলে হামলা, হিজবুল্লাহকে প্রস্তুত থাকতে বললো ইরান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সরকারের প্রধান লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইট উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য : মির্জা ফখরুল শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: জয়সওয়াল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফর সেনা হেফাজতে এক সপ্তাহে বিশ্বে তেলের দাম বাড়ল ১২ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে চীনের নতুন ‘এআই জোট’ দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফেরা হলো না মিজান ও মুক্তার

Ayesha Siddika | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ - ০৩:০৭:৩৬ পিএম

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরের সিরাজিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার বিপরীত পাশে বাবার ভাড়া বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন মুক্তা। রাতে তাকে নিতে আসেন স্বামী মিজান। রাতের খাবার শেষ করে সাড়ে ৯টার দিকে ভারী বৃষ্টির মধ্যেই দুই সন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানা এলাকায় নিজেদের ভাড়া বাসার উদ্দেশে রওনা দেন মিজান ও মুক্তা। কিন্তু বাসায় ফেরা হলো না তাদের। পথেই বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে বিদ্যুতায়িত হয়ে মিজান, মুক্তা ও তাদের কন্যা সন্তান লিমা মারা যান। ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায় সাত মাসের শিশুপুত্র হোসাইন। 

বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে মিরপুর মডেল থানার সিরাজিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার পাশে হাজী রোডে এ ঘটনা ঘটে। আজ (শুক্রবার) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিরাজিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে চোরাই লাইনের মাধ্যমে পাশের ঝিলপাড় বস্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার দেয়ালের ভেতর দিয়ে বৈদ্যুতিক তার নেওয়া হয়েছে, যাতে সিমেন্ট দিয়ে প্রলেপ দেওয়া রয়েছে। তারের কিছু অংশ সেই প্রলেপের ওপরও বেরিয়ে রয়েছে। মূলত বৃষ্টির পানিতে তারের এ অংশ ডুবে গিয়ে এখান থেকেই ঘটেছে বড় দুর্ঘটনাটি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে ভারী বৃষ্টির কারণে এখানকার হাজী রোড ও ফুটপাত পানি নিচে তলিয়ে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিও বাড়তে থাকে। সেই ফুটপাত দিয়ে দেয়াল ঘেঁষে বাসায় যাচ্ছিলেন মো. মিজান, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। মিজানের কোলে ছিল কন্যা সন্তান লিমা, আর মুক্তার কোলে ছিল সাত মাসের ছেলে হোসাইন। মাদ্রাসার দেয়ালের শেষপ্রান্ত ও ভাই ভাই সুপার কফিসপ অ্যান্ড কনফেকশনারির সামনের আসতেই তারা পানিতে ছটফট করতে থাকেন। এসময় দূর থেকে অনেকেই ভিডিও করতে থাকেন। সেসময় অনিক নামে একজন এগিয়ে আসেন। পরে তিনিও বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান। 

সেখানকার দোকানদার মো. জামাল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি শুধু ছটপট করতে দেখেছি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তারা মারা যান। হত মিজানের বাবা নাছির হাওলাদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত বুধবার রাতে মিজান বরিশাল থেকে এসেছে। এরপর বউ-বাচ্চাদের নিয়ে শ্বশুরের বাসা থেকে নিজেদের বাসায় ফিরছিল। নিজ গ্রাম বরিশালের ঝালকাঠি থানার বিকনার গ্রামে তাদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। 

মিজানের মামা নজরুল ইসলাম জানান, গতকাল রাত ২টায় খবর পেয়ে তারা ভোরে বাসে করে ঢাকায় আসেন।মিজানের শ্বশুর ও মুক্তার বাবা মো. লিটন মিয়া বলেন, আমি কাঁচামালের ব্যবসা করি। আমি বাসায় ছিলাম না। মেয়ে ও জামাইয়ের সঙ্গে দুপুরে কথা হয়। তারা চিড়িয়াখানার দিকে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ভাড়া থাকত। সেখানে যাওয়ার সময় আমার মেয়ে, জামাই ও নাতনি মারা যায়।

 

 

কিউটিভি/আয়শা/২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩,/বিকাল ৩:০৪

▎সর্বশেষ

ad