কৃষক ও চা শ্রমিকদের হাতের পুতুল বানানো যাবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

Ayesha Siddika | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ - ০৬:৩৫:২১ পিএম

স্পোর্টস ডেস্ক : শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড়ে বাংলাদেশ চা বোর্ড এবং স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যান্ড টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন,নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণে কৃষক ও চা শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কৃষকদের ও চা শ্রমিকদের কারো হাতের পুতুল করা যাবে না। কারো ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে তাদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়া যাবে না।

নিলাম কেন্দ্রের পাশাপাশি যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে নিদারুণ কষ্ট করে চা উৎপাদন করছেন, তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হবে জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘এটা করা না গেলে নিলাম কেন্দ্র মূল্যহীন হবে। তাই কৃষক ও চা শ্রমিকরা যেন ন্যায্যমূল্য পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’চা উৎপাদনকারীরা কেন তাদের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না–এমন প্রশ্ন রেখে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন,

কৃষক-শ্রমিকরা সঠিক মূল্য না পেলে উত্তরবঙ্গসহ দেশের অন্যান্য চা বাগানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় কৃষকের জন্য চায়ের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ এবং তার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ চা বোর্ড এবং জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন টিপু মুনশি। তিনি বলেন, ‘কৃষক-শ্রমিকরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হোক; এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ৬৫ শতাংশ চা উৎপাদন হয় সিলেট অঞ্চলে। সেখানে চা নিলাম কেন্দ্র হতে ১০০ বছরের বেশি সময় লেগেছে। কিন্তু এখানে মাত্র ২০ বছরের মধ্যে নিলাম কেন্দ্র করা সম্ভব হলো। এটা সত্যিই গৌরব ও সৌভাগ্যের।’

চায়ের গুণগত মান ঠিক রাখতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাপাতা উত্তোলনের জন্য সরকার কৃষকদের বিনা মূল্যে যন্ত্রপাতি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চা শিল্পের উন্নয়নে এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সবাইকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরও বলেন,পঞ্চগড়ে চা নিলাম কেন্দ্র হয়েছে। এখন থাকার জন্য ভালো মানের আবাসিক ব্যবস্থা দরকার। কারণ, চা নিলামের সময় সশরীরে যারা অংশ নেবেন, তারা এখানে আসবেন। যদি তাদের ভালো মানের একটা পরিবেশ দেয়া না যায়, তাহলে নিলাম কেন্দ্রের সুফল পাওয়া যাবে না।

ঠাকুরগাঁওয়ে এয়ারপোর্ট চালু করা গেলে বায়াররা সকালে এসে নিলামে অংশ নিয়ে বিকেলে চলে যেতে পারবেন বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এয়ারপোর্ট চালু করার বিষয়ে সর্বোচ্চ মহলে আলোচনা করা হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যান্ড টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ মো. আমিরুল হক খোকন, রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম সুজন, পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোজাহারুল হক প্রধান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনাররেল আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

 

 

কিউটিভি/আয়শা/০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩,/সন্ধ্যা ৬:৩৪

▎সর্বশেষ

ad