লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : ব্যস্ত নগরজীবনে ধুলাবালি, গাড়ির ধোঁয়া, নির্মাণকাজের সূক্ষ্ম কণা ও বায়ুদূষণের প্রভাব পড়ে চুল ও মাথার ত্বকে। এসব দূষিত কণা চুলের প্রাকৃতিক তেল ও ঘামের সঙ্গে মিশে আস্তরণ তৈরি করে। ফলে চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যায়, দেখা দেয় শুষ্কতা ও রুক্ষতা।
চুল বিশেষজ্ঞরা জানান, দূষণের কারণে মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়া এবং চুলের সুরক্ষামূলক স্তরের ক্ষতি হতে পারে। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে চুলের কোমলতা ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখা সম্ভব।
১. শ্যাম্পুর আগে তেল ব্যবহার করুন
শ্যাম্পু করার প্রায় ৩০ মিনিট আগে চুলে হালকা উদ্ভিজ্জ তেল মালিশ করতে পারেন। এতে চুলে একটি সুরক্ষামূলক আবরণ তৈরি হয়, যা ময়লা ও দূষিত কণা জমার প্রভাব কমাতে সহায়তা করে।
২. নির্দিষ্ট বিরতিতে ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন
প্রতি দুই সপ্তাহে একবার ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি চুলে জমে থাকা খনিজ পদার্থ ও অন্যান্য দূষিত উপাদান দূর করতে সাহায্য করে। আপেল সিডার ভিনেগারের দ্রবণও চুলের বাইরের স্তর মসৃণ রাখতে সহায়ক হতে পারে।
৩. রাতে চুলের যত্ন নিন
ঘুমানোর আগে নরম ব্রাশ দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলে জমে থাকা ধুলাবালি দূর হয়। সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহার করলে চুলের সঙ্গে ঘর্ষণ কমে। পাশাপাশি ভিটামিন ই অথবা গ্রিন টি-যুক্ত লিভ-ইন কন্ডিশনার চুলে সুরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করতে পারে।
উদ্ভিজ্জ তেল, মাখন ও ভেষজ নির্যাসসমৃদ্ধ প্রসাধনী চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। আকাই, অ্যালোভেরা, মুরুমুরু ও জবা ফুলের নির্যাস চুলের যত্নে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া মেহেদি এবং ভারতীয় ও আমাজনীয় ভেষজ উপাদানসমৃদ্ধ পণ্যও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
৫. চুলের প্রসাধনীর উপাদান যাচাই করুন
চুলের যত্নে ব্যবহৃত পণ্য কেনার আগে উপাদানের তালিকা দেখে নেওয়া জরুরি। অ্যামোনিয়ার পাশাপাশি ইথানোলামিন, ডাইইথানোলামিন ও ট্রাইইথানোলামিনের মতো উপাদান সম্পর্কেও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ। দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় চুলের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞের মতে, নগরজীবনে দূষণ এড়ানো কঠিন হলেও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রাতে চুলের যত্ন এবং উপযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের মাধ্যমে চুলের স্বাভাবিক কোমলতা ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখা সম্ভব।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
আয়শা/০১ নভেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:২২
