দেবশ্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর যা ঘটেছিল প্রসেনজিতের জীবনে

Ayesha Siddika | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১০:৩৮:০৭ পিএম

বিনোদন ডেস্ক : টালিউড ইন্ডাস্ট্রির ‘বুম্বা’ থেকে প্রসেনজিতের সফর। ব্যক্তি বুম্বার মন থেকে তার প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি— সব মিলিয়ে ভ্রাতৃসম প্রসেনজিতের জন্মদিনে কলম ধরলেন অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, এখন যে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, আমার কাছে সে আজও হাফপ্যান্ট পরা বুম্বা। প্রথম যখন ওকে দেখেছিলাম, তখন ও আর পল্লবী অনেক ছোট। বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় তখন মুম্বাইতেই থাকতেন। নাগের বাজারে বড় বাগানওয়ালা একটি বাংলো ছিল বুম্বার দাদুর। সেখানে ওরা থাকত। আমার তখন বছর কুড়ি বয়স হবে। প্রথম চিত্রনাট্য লিখেছি। নাম ছিল ‘মানুষের নাম ঈশ্বর’। 

চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, প্রথমেই মহানায়ক উত্তম কুমারকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তিনি যে সময়ে করবেন বলেছিলেন, তাতে প্রযোজকরা রাজি হলেন না। এরপরই বিশুদা মানে বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে গল্প শোনানোর কথা বললেন তারা। সেই সময়ে গেলাম ওর বাড়িতে।

এ অভিনেতা বলেন, ওই প্রথম দেখলাম ছোট্ট বুম্বাকে। ফুটফুটে দুলদুলে মিষ্টি ভাইবোন। ওরা খুব ভক্ত হয়ে গিয়েছিল আমার। মাকু (পল্লবী) আমার কোলে বসে পড়ত। আমি গল্প বলতাম, ওরা শুনতো। বুম্বার মা আমাদের খাওয়াতেন অনেক কিছু। এভাবেই আলাপ। 

তিনি বলেন, এরপর অনেক দিন পর স্টুডিওতে ওর সঙ্গে দেখা। আমি তখন কিছুটা পরিচিতি পেয়েছি। ‘শত্রু’ সিনেমাটা করছি। বুম্বা তখন স্ট্রাগল করছে। ওর মা-ও স্টুডিয়োতে যেতেন। বুম্বার মায়ের সেই মিষ্টি হাসি আমার মনে ধরে আছে এখনো। ওই হাসিটাই অবিকল বুম্বা পেয়েছে।

‘শত্রু’ সিনেমায় বুম্বা একটা ছোট্ট চরিত্র করেছিল, কিছুটা খলচরিত্র ধাঁচের। ক্লাইম্যাক্স শুটিংয়ে গিয়েছিলাম। তখন বোলপুর লজে থাকতাম। আমি তখন চিরঞ্জিত হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি। সেখানে স্কুলের মেয়েরা আমার অটোগ্রাফ নিতে এসেছিল, বুম্বা আমার পাশে বসেছিল। যে পেনটা আমায় দিয়েছিল, তাতে কালি ছিল না বলে বুম্বা লাফ দিয়ে পাঁচিল টপকে কলম আনতে গিয়েছিল। পেন এনে আমার হাতে দিয়ে বলল— ‘নাও, ওদের জন্য অটোগ্রাফ দাও।’ 

চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, খুব মিষ্টি ছিল বুম্বা। আমি অটোগ্রাফ দেব বলে আমার জন্য ছুটে গিয়ে ও পেন এনে দিচ্ছে, ওই মুহূর্তটার জন্য সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব আমি। এখনো তা ভেবে আনন্দ পাই। ওই আমাদের শুরু।

এরপর ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন সময় আমরা পেরিয়েছি। চিরঞ্জিত-তাপস পাল-প্রসেনজিৎ— এই ত্রয়ীকে নিয়ে তখন কথা হতো। আমার সঙ্গে কখনো ওর গোলমাল হয়নি। প্রতিযোগিতা তো থাকবেই। তবে সেটা একেবারেই অন-স্ক্রিন। অফ-স্ক্রিনে আমাদের বন্ডিং আলাদা।

তিনি বলেন, লম্বা সময় ধরে অনেক কিছু দেখেছি। ও আমার ভাইয়ের মতো। আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। ওর ইন্ডাস্ট্রিতে আসা থেকে, টিকে থাকা, নিজেকে গড়ে তোলা থেকে ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠা— সব কিছুরই সাক্ষী থেকেছি।  আজ ও পদ্মশ্রী পেয়েছে। নতুন করে কাজের প্রতি নিষ্ঠা নিয়ে দর্শকদের সামনে প্রতিদিন আসছে, তাই ইন্ডাস্ট্রিও ওকে দুই হাত ভরে ফিরিয়ে দিচ্ছে।

চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, ও অসম্ভব পরিশ্রমী একটা মানুষ, নিজেকে নানা সময়ে বদলেছে। এখন বুম্বা মারাত্মক ডিসিপ্লিনে থাকে। আমি ওর সঙ্গে কিছু দিন আগেও কাজ করেও তা দেখলাম। ‘বিজয়নগরের হীরে’ ছবিতেও খুব ভালো অভিজ্ঞতা হলো। 

তিনি বলেন, আমরা মুম্বাই গিয়েছিলাম শুটিংয়ে। ওর ফ্ল্যাটেই ছিলাম। ওর গাড়িতে করে যেতে যেতে একটা আমার লখনউয়ের ওপর লেখা প্রেমের গল্প শোনালাম। ও মন দিয়ে শুনল। যদি ও প্রযোজনা করে আর অভিনয় করে, আমি পরিচালনা করার কথা ভেবেছি। একজন সাংবাদিকের চরিত্রে ওকে ভেবেছি, যদি ও করতে রাজি হয়, আবার আমরা একসঙ্গে কাজ করব।

এ অভিনেতা বলেন, আমি জানি, বুম্বা ব্যক্তিগত জীবনে খুবই ভালো মানুষ। কিন্তু ওকে ওর মতো করে বুঝবে, এমন মনের মানুষ হয়তো পেল না। ও সব সময় বলে—‘আমি বাবা হিসেবে ভালো, কিন্তু স্বামী হিসেবে নই।’ ওর জীবনের নানা পর্যায় দেখেছি। বিয়ের সময়েরও সাক্ষী ছিলাম। দেবশ্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ও নিজেকে একেবারে গুটিয়ে নিয়েছিল। বেশ কিছু দিন ও কোনো কাজ করেনি, ডিপ্রেশনে ছিল। সেই সময় অনেক দিন পর কাজ করেছিল, আর সেটা আমার সঙ্গে। ছবির নাম ছিল ‘চন্দ্রগ্রহণ’। 

তিনি বলেন , চুপচাপ থাকত, কথা বলত না। ওকে অনেক বোঝাতাম। জীবনের একটা পর্যায় ছিল ওটা। কিন্তু ওই যুদ্ধে জয়ী হয়ে ফিরে এসেছিল, নিজের জাত চিনিয়েছিল। সাহস দিয়েছিলাম ওকে দাদার মতো, লড়ার কথা বলেছিলাম ওকে। ও তো সেই লড়াই করে শীর্ষে পৌঁছেছে। সত্য়ি বলতে— ব্যক্তি বুম্বার অনেক বদল এসেছে গৌতম ঘোষের পরিচালনায় ‘মনের মানুষ’ ছবিতে কাজ করার পর।

চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, আজ (মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর) ওর জন্মদিনে খুব ভালোবাসা জানাই ওকে। ক্যারিয়ারে ও আরও এগিয়ে যাক। আমার আশীর্বাদ থাকবে। অনেক লম্বা সময় ধরে যে সাফল্য ও ধরে রেখেছে, আগামী দিনেও তা বজায় থাকুক। আমি চাই— সবার কাছে ইন্ডাস্ট্রির ‘সিওও’ হয়ে থাকুক বুম্বা।

 

 

আয়শা/৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১০:৩৩

▎সর্বশেষ

ad