আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২৪.৩ বিলিয়ন ডলার।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, এই চুক্তি সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার করবে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
সৌদি আরব বহু বছর ধরেই এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু আগের কয়েকটি মার্কিন প্রশাসন সেই অনুমতি দেয়নি। এর অন্যতম কারণ ছিল ইসরাইলের আপত্তি। তবে গত বছরের নভেম্বরে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির পরিকল্পনা আসে।
কিন্তু সৌদি আরব কেন এফ-৩৫ কিনতে এত আগ্রহী? আর যুক্তরাষ্ট্রই বা কেন নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে সৌদিকে যুদ্ধবিমান দেওয়ার অনুমতি দিল—তা জেনে নেওয়া যাক।
এফ-৩৫ আসলে কী?
এফ-৩৫ হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘লকহিড মার্টিন’র তৈরি অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান। এর পূর্ণ নাম এফ-৩৫ লাইটনিং টু। ‘লকহিড মার্টিন’ নিজেদের ওয়েবসাইটে এটিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান’ হিসেবে বর্ণনা করে।
এফ-৩৫ মূলত একটি স্টেলথ যুদ্ধবিমান। অর্থাৎ রাডার ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে যাতে শত্রুপক্ষ সহজে বিমানটিকে শনাক্ত করতে না পারে, সেভাবেই এটি তৈরি করা হয়েছে।
শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান আক্রমণের আগেই শনাক্ত করে হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে এর। সফলভাবে এসব কাজ করতে পারলে কোনো সংঘাতে আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এফ-৩৫ তৈরির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েকটি দেশও অংশীদার। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইতালি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্য। এসব দেশ বিমানটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করে অথবা নিজেদের ব্যবহারের জন্য এফ-৩৫ সংযোজনের কারখানা পরিচালনা করে।
এফ-৩৫-এর কত ধরনের মডেল রয়েছে?
এফ-৩৫-এর প্রধানত তিনটি সংস্করণ রয়েছে—এফ-৩৫এ, এফ-৩৫বি এফ-৩৫সি।
এফ-৩৫এ: এটি এফ-৩৫-এর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সংস্করণ এবং সবচেয়ে বেশি দেশ এই মডেল ব্যবহার করে।
এফ-৩৫এ সাধারণ রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে। এর অস্ত্র ও জ্বালানি বিমানের ভেতরেই রাখা হয়, যাতে এর স্টেলথ সক্ষমতা বজায় থাকে।
এফ-৩৫ আই (আদির) : এটি ইসরাইলের জন্য বিশেষভাবে পরিবর্তিত এফ-৩৫এ। এতে ইসরাইলের তৈরি কিছু প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে স্টেলথ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য জ্যামিং ও ডিকয় ব্যবস্থা।
বিমানটিতে অতিরিক্ত জ্বালানি বহনের জন্য বাইরের ফুয়েল ট্যাংকও যুক্ত করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘ সময়ের মিশনে মাঝপথে জ্বালানি নিতে না হয়।
আয়শা/১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/দুপুর ২:৫০
