আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় হ্রদ তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও বসতিগুলোতে পানি উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেটের ওপেনিং ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ রোববার সকাল ১০টায় গেটগুলো ৩ ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে স্পিলওয়ে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে।
এর আগে রোববার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট এক ফুট বাড়িয়ে মোট দুই ফুট করা হয়েছিল। তখন গেট দিয়ে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছিল। তার আগে শনিবার প্রথম দফায় গেটগুলো ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ওপেনিং বাড়িয়ে এক ফুট করা হলে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছিল।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান প্রতিবেদক আলমগীর মানিককে জানান, বর্তমানে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৩ ফুট করে খোলা রয়েছে। এসব গেট দিয়ে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট সচল রয়েছে। পাঁচ ইউনিটের মাধ্যমে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক—দুই পথে কাপ্তাই হ্রদ থেকে মোট প্রায় **৯০ হাজার কিউসেক পানি প্রতি সেকেন্ডে** কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ১০৬ দশমিক ২০ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। হ্রদের বিপজ্জনক সীমা ১০৯ ফুট এমএসএল। বর্তমানে পানি বিপজ্জনক সীমার নিচে থাকলেও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছিল। এ কারণে হ্রদের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলকে অতিরিক্ত পানির ঝুঁকি থেকে রক্ষায় ধাপে ধাপে গেটের ওপেনিং বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে গতকাল উল্লেখযোগ্য কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানোর ফলে হ্রদের পানির স্তর দ্রুত কমে আসবে বলে আশা করছেন তারা। কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় রাঙামাটির বিভিন্ন হ্রদ তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, বসতবাড়ি ও ফসলি জমিতে পানি উঠেছে। এতে এসব এলাকার অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্রদ তীরবর্তী নিচু এলাকা ও বসতিগুলোতে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ এবং ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য গেটের ওপেনিং বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে পানিবন্দি এলাকা ও ফসলি জমি থেকে পানি সরে গেলে ধাপে ধাপে গেটের ওপেনিং কমিয়ে দেওয়া হবে।
তবে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ে দিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখার এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে উজানের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে গেলে বাঁধের স্পিলওয়ে গেট খুলে অতিরিক্ত পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হয়। এর মাধ্যমে হ্রদের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও বসতিগুলোকে অতিরিক্ত পানির ঝুঁকি থেকে রক্ষার চেষ্টা করা হয়।
আয়শা/৩০ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ৯:০০
