রাশিদুল ইসলাম রাশেদ কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের কয়েকটি নদ-নদীর পানি বাড়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে বন্যার আতঙ্ক বাড়ছে। এরই মধ্যে নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়ে আমন বীজতলা, পাট, চীনাবাদাম ও শাকসবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বন্যা মৌসুমে জেলায় এসব ফসলসহ মোট ৪৯৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমর নদের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে ৪২টি পয়েন্টে নতুন করে তীব্র নদী ভাঙন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে সকাল ৬টা থেকে পানি ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানি দিনের মধ্যে ৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘কুড়িগ্রামের নদ-নদীগুলোর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও কয়েকটি পয়েন্টে পানি বাড়ছে। উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের ওপর পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে। পানি বাড়ার বিষয়টি আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় চর ও নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমিতে পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। বিশেষ করে আমন বীজতলা, পাট, চীনাবাদাম ও শাকসবজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৪৯৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি আরও বেড়ে নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। ক্যাপশনঃ চিলমারী উপজেলার নৌবন্দর এবং ব্রহ্মপুত্রের কাঁচকেল এলাকা থেকে ক্যামেরাবন্দি।
আয়শা/২১ জুলাই ২০২৬,/রাত ৯:৩০
