
স্পোর্টস ডেস্ক : গত বছরের জুনে ৬৫ বছর বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন রেনি। মৃত্যুকালে পরিবারের জন্য রেখে গেছেন প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড (১.২৮ মিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের সম্পদ। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২১ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি। সম্প্রতি প্রকাশিত নথিতে এ তথ্য জানা গেছে। উইল না রেখে যাওয়ায় তার সম্পত্তি সরাসরি ভাগ হয়েছে সঙ্গী জেইন ও দুই সন্তানের মধ্যে।
জামাইকায় জন্ম নেওয়া রেনি ছোটবেলায় পরিবারসহ ইংল্যান্ডের শেফিল্ডে বসবাস শুরু করেন। সেখান থেকেই গড়ে ওঠে তার জীবন ও ক্যারিয়ার। প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রেফারি হিসেবে ১৯৯৭ সালে প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে ইতিহাস গড়েন তিনি। ডার্বি কাউন্টি ও উইম্বলেডনের মধ্যকার ম্যাচ দিয়েই শুরু হয় তার যাত্রা। পরবর্তী এক দশকে ৩০০-র বেশি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন দৃঢ় ব্যক্তিত্ব ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতার জন্য।
শুধু ফুটবলেই নয়, সমাজসেবাতেও ছিলেন সমান সক্রিয়। ১৯৯৬ সাল থেকেই শেফিল্ডে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পাশাপাশি দক্ষিণ ইয়র্কশায়ারের বিভিন্ন যুব উন্নয়ন কর্মসূচিতে যুক্ত থেকে তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করেছেন। জীবনের শেষদিকে কঠিন শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হন রেনি। ২০২৪ সালে এক বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়ে কোমর থেকে নিচের অংশ সাময়িকভাবে অবশ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থেকে পুনর্বাসন নিতে হয়েছে তাকে। সে সময় এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এক মাস পুরোপুরি শুয়ে ছিলাম, এরপর চার মাস বসে থাকতে হয়েছে। হাঁটা শেখাটাই যেন নতুন করে শুরু করতে হয়েছে।’
জীবনের শেষ প্রান্তে শেফিল্ড হ্যালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াটা ছিল তার অবদানের বড় স্বীকৃতি। যদিও শারীরিক অবস্থার কারণে পূর্ণভাবে দায়িত্ব নিতে পারেননি। তার মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত শেষকৃত্যে শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানান। ফুটবল অঙ্গন থেকে শুরু করে সমাজের নানা স্তরের মানুষ তাকে স্মরণ করেছেন একজন পথপ্রদর্শক, ন্যায়পরায়ণ কর্মকর্তা এবং অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে। ইংলিশ ফুটবলে বর্ণবৈষম্যের দেয়াল ভেঙে পথ দেখানো থেকে শুরু করে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব; সব মিলিয়ে উরিয়াহ রেনির জীবন এক অনন্য উদাহরণ। মাঠে তার দৃঢ় উপস্থিতি আর মাঠের বাইরে মানবিক অবদান, তিনি থেকে যাবেন স্মৃতিতে দীর্ঘদিন।
আয়শা/১৮ এপ্রিল ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:২২






