ব্রেকিং নিউজ
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাসিরজাদেহ ও গার্ড কমান্ডার পাকপুর নিহতের দাবি আমাদের কাজগুলো যেন মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য হয়: প্রধানমন্ত্রী মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি ইরানে হামলার জেরে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, বদলে যেতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ পুলিশের শীর্ষ পদে আলোচনাঃ আইজিপি পদে আলী হোসেন ফকির আলোচনার শীর্ষে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় পাশে থাকবে ভারত: হাইকমিশনার ইউনূস সেন্টারে ফিরলেন ড. ইউনূস বৃহস্পতিবার বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, দেবেন একুশে পদক ১৪ লাখ বাংলাদেশির ভিসা ইস্যু করা হয়েছে : সৌদি রাষ্ট্রদূত

ফসলের জাকাত দেবেন কীভাবে?

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ - ০৪:২৩:১১ পিএম

ডেস্ক নিউজ : ধনসম্পদ গবাদি পশু, স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্য ও খনিজ সামগ্রীর ওপর যেমন জাকাত আদায় করা ফরজ, তেমনি ফসলের ওপর ওশর আদায় করাও ফরজ। এ সম্পর্কে ইসলামের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। তাহলো—

ওশর- এর পরিচয়

ওশর আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো جزء واحد من العشرة বা এক দশমাংশ। পরিভাষায় ওশর বলা হয়, احد اجزاء العشرة او نصفه يؤخذ من الارض العشرية (قواعد الفقه لعميم الاحسان

সহজ ভাষায় ওশরি জমিনে উৎপাদিত শস্যের এক দশমাংস বা তার অর্ধেক গ্রহণ করাকে ওশর বলা হয়। যদি মহান আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক পানি দ্বারা জমি আবাদ করে, তাহলে এক দশমাংশ, আর যদি নিজস্ব পানি দ্বারা আবাদ করে, তাহলে নিসফে উশর তথা বিশ ভাগের একভাগ দান করবে।

কোরআনে ওশর

পবিত্র কোরআনের মহান আল্লাহ বলেন—

 وَ اٰتُوۡا حَقَّهٗ یَوۡمَ حَصَادِهٖ ۫ۖ وَ لَا تُسۡرِفُوۡا ؕ اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الۡمُسۡرِفِیۡنَ

‘যখন তা ফলদান করে এবং ফল কাটার দিনেই তার হক দিয়ে দাও। আর অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদেরকে ভালবাসেন না।’ (সুরা আনয়াম: আয়াত ১৪১)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় অধিকাংশ ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য ওশর বা নিসফে ওশর। যা ফসল কাটার দিনেই এর হক আদায় করে দিতে হয়।  (বাদায়েয়ুস সানায়ে ২/১৬৯)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, হকটি হলো ফরজ জাকাত। আবার বলেন, ওশর ও নিসফে ওশর। (আল-মুগনী লি ইবেন কুদামা ২/৫৪৭)

 হাদিসে ওশর

عن سالم بن عبد الله عن أبيه رضي الله عنه : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ( فيما سقت السماء والعيون أو كان عثريا العشر وما سقي بالنضح نصف العشر ) (صحيح البخارى : كتاب الزكوة : باب العشر فيما يسقي من ماء السماء وبالماء الجاري : 1/201 برقم : 1453)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি (সা.) বলেন, আসমানী বা নদীনালা অথবা অন্যান্য প্রাকৃতিক পানি সিঞ্চনে যা উৎপাদিত হয় তাতে ওশর আসবে। আর যা কৃত্রিম উপায়ের পানি দ্বারা সিঞ্চিত হবে তাতে অর্ধেক ওশর আবশ্যক হবে। (বুখারি; কিতাবুজ জাকাত: ১৪৫৩)

وعن جابر أنه سمع رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول : [ فيما سقت الأنهار والغيم العشر وفيما سقي بالسانية نصف العشر ] أخرجه مسلم و أبو داود (المغنى 2/547)

হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি শুনেছেন, নবীজি (সা.) বলেছেন—

‘যা নদীনালা ও বৃষ্টির পানি দ্বারা সিঞ্চনে উৎপাদিত, তাতে আসবে ওশর। আর যা কৃত্রিম উপায়ের পানি দ্বারা সিঞ্চিত, তাতে আসবে অর্ধেক ওশর। (মুসলিম; আবু দাউদ) ফুকাহায়ে কেরাম একমত এ ব্যাপারে যে, নিশ্চয়ই গম, যব, খেজুর ও কিশমিশে সদকা (ওশর) ওয়াজিব। (আল মুগনী: ২/৫৪৭)

গরীবদের ওশর দেওয়াটা নেয়ামতের শুকরিয়ার অন্তর্ভুক্ত। দুর্বলকে সবল ও শক্তিশালী করা। এ ছাড়া এর দ্বারা মন পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হয়। আর এর প্রতিটি বিষয়ই ইসলামি দৃষ্টিতে ও যুক্তির নিরিখে আবশ্যকীয় বিষয়। (বাদায়েয়ুস সানায়ে ২/১৭০)

 

 

আয়শা/০৭ মার্চ ২০২৬,/বিকাল ৪:২২

▎সর্বশেষ

ad