
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের আশঙ্কাজনক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও তার দ্রুত মুক্তির দাবিতে পার্লামেন্ট হাউসের সামনে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তান (টিটিএপি) জোটের সংসদ সদস্যরা দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এ প্রতিবাদে ইমরান খানকে অবিলম্বে হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানানো হচ্ছে, পাশাপাশি তার মুক্তির জন্য আদালতে নতুন করে জামিন আবেদন করা হয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে দাখিলকৃত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, কারাবন্দি ইমরান খানের ডান চোখের মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট রয়েছে। এ তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর পিটিআই ও টিটিএপি সমর্থকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং তাকে দ্রুত ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের জোর দাবি জানান।
ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল সুলতান বলেছেন, রেটিনা সার্জারিতে দক্ষ বিশেষজ্ঞ ও উন্নত সরঞ্জামের মাধ্যমে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে তিনি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন। এদিকে পার্লামেন্ট হাউসের ভেতরে অবস্থানরত সংসদ সদস্যরা মানবেতর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পিটিআই নেতা শেখ ওয়াকাস আকরাম জানিয়েছেন, পুলিশ তাদের কার্যত ‘বন্দি’ করে রেখেছে এবং গত শুক্রবার রাত থেকে তারা সেখানে অভুক্ত অবস্থায় আছেন। বাইরে থেকে খাবার ও পানি সরবরাহের সব পথ পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
টিটিএপি নেতা মুস্তফা নওয়াজ খোখার খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে সরকারের এই আচরণকে ‘মানবিকতাবর্জিত’ ও ‘ইয়াজিদিয়াত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম (জেইউআই-এফ) মুখপাত্র আসলাম গৌরী সংসদ সদস্যদের ওপর পুলিশের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আটক নেতাদের দ্রুত মুক্তি দাবি করেছেন। রাজনৈতিক এই অস্থিরতার মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি কর্মীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন এবং ‘আওয়াম পাকিস্তান’ পার্টিও এই অবস্থানে সংহতি প্রকাশ করে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদি আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ইমরানের বোন আলিমা খান অভিযোগ করেছেন, আদালত মৌখিক নির্দেশ দিলেও লিখিত আদেশ দিতে গড়িমসি করছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী দাবি করেছেন, ইমরান খানকে তার পছন্দের হাসপাতালেই চিকিৎসার জন্য নেওয়া হবে। ইমরান খানের জামিন আবেদনের শুনানি উচ্চ আদালতে চলমান থাকায় এবং রাজপথে কর্মীদের অনড় অবস্থানের কারণে আগামী কয়েক দিন পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ডন
আয়শা/১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ১০:৩০






