
এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় কোনো টেন্ডার ছাড়াই যশোরের জেলা পরিষদের সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফেরদৌস খানের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারী সকালে চৌগাছা সরকারি কলেজ এলাকায় সড়ক থেকে ২টি রেইন্টি কড়ই গাছ কেটে বিক্রি করেছেন তিনি। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় লাখ টাকা। গাছ বিক্রি করা টাকার কোনো হিসেব জানেনা সংশ্লিষ্ট কেউ। অভিযুক্ত বন কর্মকর্তা বলছেন গাছ বিক্রি শেষে টেন্ডার করা হবে। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি।
জানা যায়, উপজেলা বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফেরদৌস খান চৌগাছায় যোগদান করার পর থেকেই সরকারি গাছ কাটাসহ বিভিন্ন দুর্নীতির রামরাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি। প্রতিনিয়ত সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করা ও রাতের আঁধারে সরকারি নদের মাটি ইট ভাটায় বিক্রির করেন তিনি। একই ভাবে কোন টেন্ডার ছাড়াই বৃহস্পতিবার সকালে চৌগাছা সরকারি কলেজ এলাকায় চৌগাছা-যশোর সড়কের ধার থেকে ২টি গাছ কেটে বিক্রি করেছেন উপজেলা বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফেরদৌস খান।
এ বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা এ বন খেকো কর্মকর্তার বিচারের দাবী জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে উপজেলা বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফেরদৌস খান দাবী করেন গাছ কাটার পর টেন্ডার দিয়ে বিক্রি করা হবে। উল্লেখ্য সম্প্রতি তিনি উপজেলার সুকপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক নির্মাণের অজুহাতে বিদ্যালয়ের ৩০/৪০ বছর বয়সী একটি মেহগনি ও একটি রেইন্টি কড়ই গাছ কেটে বিক্রি করেন। টেন্ডার ছাড়াই গাছ দুটি বিক্রি করে দেন উপজেলা বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফেরদৌস খান। যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
সুকপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অহিদুল ইসলাম জানান, স্কুলের ওয়াশব্লক নির্মানের জন্য দুটি গাছ কাটার প্রয়োজন হয়। বিধি মোতাবেক রেজুলেশন করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিই। টেন্ডার ছাড়াই গাছ দুটি কাটা শুরু করেন তিনি। আমি বাধা দিলে উপজেলা বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফেরদৌস খানা বলেন নিয়ম মেনেই গাছ কাটা হচ্ছে। গাছ দুটি বিক্রি সব টাকা বন কর্মকর্তা নিজেই হজম করেছেন। এমন কি কত টাকায় গাছ দুটি বিক্রি করা হয় তা আমার জানা নেই।
ইছাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রেজুলেশন দেওয়ার দুই তিনদিন পরে কয়েকজন গাছ কাটতে শুরু করে। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান এই গাছ টেন্ডারের মাধ্যমে বনবিভাগের কাছ থেকে তারা ক্রয় করেছেন। টেন্ডারের চিঠি দেখতে চাইলে তারা বন কর্মকর্তা ফেরদৌসের কাছে ফোন ধরিয়ে দেন। অপর দিক থেকে তিনি বলেন, টেন্ডারের চিঠি আমার কাছে আছে আপনি এসে নিয়ে যান। আমি অফিসে গেলে তিনি চিঠি দেখাতে পারেননি। এক পর্যায়ে ওই প্রধান শিক্ষকের বাধার মুখে গাছটি বনখেকো কর্মকর্তা ফেরদৌস খানের হাত থেকে রক্ষা পায়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সুকপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির জন্য রেজুলেশন পেয়ে বন বিভাগকে গাছগুলোর ভিত্তি মূল্য নির্ধারনের জন্য বলা হয়। এর মধ্যে আমাকে কিছু না জানিয়ে অবৈধভাবে বন বিভাগ গাছ বিক্রি করে দিয়েছে। টাকা কি করেছে বন বিভাগের লোকজনই ভালো জানেন। একটি সূত্র জানিয়েছেন, কেবলমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ নয় উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাস্তার পাশের সরকারি গাছ সুযোগ পেলেই বনসংরক্ষণ কর্মকর্তা ফেরদৌস খান বিক্রি করে টাকা পকেস্থ করেন।
বন বিভাগের একটি সুত্র জানিয়েছেন, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগেও সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় বন বিভাগ। উপজেলা বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফেরদৌস খান বলেন, বৃহস্পতিবার যে গাছ কাটা হয়েছে তার টেন্ডার দেওয়া হবে। আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ টেন্ডার ছাড়া বিক্রি করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন। গাছ বিক্রির টাকা কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি কথা ঘুরিয়ে বলেন, কিভাবে গাছ বিক্রি করা হয়েছে আর টাকা কোথায় আছে এই বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং তার অফিসাররাই ভালো জানেন।
আয়শা/২৯ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:২২





