
লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, দোকান থেকে কেনা বিস্কুট বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই কেন শেষ হয়ে যায়? অথবা অনুষ্ঠানে চোখের সামনে থাকা সব স্ন্যাকস খেয়ে ফেলার পর কি আপনার আফসোস হয়? টিভি দেখার সময় এক প্যাকেট চিপস শেষ করে ফেলার পর মন খারাপ হয়? তখন হয়তো নিজেকেই প্রশ্ন করেন আমি কেন এত বেশি খাই।
মাঝে মাঝে আমাদের সবারই অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা থাকে। কিন্তু যদি এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ওজন বাড়তে পারে, এমনকি খাওয়া-সংক্রান্ত নানা শারীরিক সমস্যার কারণও হতে পারে।
অতিরিক্ত খাওয়ার ক্ষতি
আপনি কেন অতিরিক্ত খাবার খান, সেই কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে একঘেয়েমি, ঘুমের অভাব, ডায়েটিং ইত্যাদি। বেশি খেলে আপনি পেট ভরা বা অলস বোধ করতে পারেন। এ ছাড়া দেখা দিতে পারে—
এসিড রিফ্লাক্স
পেট ফাঁপা
গ্যাস
বুকজ্বালা
বমি বমি ভাব
পেট ব্যথা
অতিরিক্ত খেয়ে ফেলার পর অনুশোচনা, বিস্ময় বা ভয়ের অনুভূতিও হতে পারে।
আমরা কেন বেশি খাই?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা কিভাবে, কখন এবং কেন খাই এই বিষয়গুলোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা। বিশেষজ্ঞরা কিছু সাধারণ কারণ ও তার সমাধান তুলে ধরেছেন।
হাতের কাছে অনেক খাবার থাকা : আপনার পাত্র ভর্তি খাবার, ফ্রিজ ভরা নানা রকম খাবার যা যে কোনো আকাঙ্ক্ষা মেটাতে প্রস্তুত। এত বিকল্প সহজে হাতের কাছে থাকলে লোভ সামলানো কঠিন হয়ে যায়।
পরামর্শ : কেনাকাটার সময় তালিকা বানিয়ে কিনুন। এতে হুট করে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা কমবে।
আবেগতাড়িত হয়ে খাওয়া : আমরা ভাবি দুঃখ বা রাগের সময় বেশি খাই। কিন্তু সুখ বা উত্তেজনার সময়ও অনেকেই অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন।
পরামর্শ : খাওয়ার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন আমি সত্যিই ক্ষুধার্ত, নাকি শুধু আবেগের বশে খাচ্ছি?
বড় পরিমাণ পরিবেশন : রেস্তোরাঁয় গেলে প্রস্তাবিত পরিমাণের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা থাকে।
পরামর্শ : বাইরে খেতে গেলে আগে থেকেই মেনু দেখে নিন। এতে অতিরিক্ত অর্ডার দেওয়া কমবে।
বিরক্তি বা অলসতা : টিভি দেখতে দেখতে, সোফায় বসে উদ্দেশ্যহীনভাবে খেতে থাকেন অনেকেই।
পরামর্শ : এক জায়গায় দীর্ঘক্ষণ না বসে মাঝে মাঝে নড়াচড়া করুন। ঠাণ্ডা পানি পান করাও খাওয়ার ইচ্ছা কমাতে সাহায্য করে।
অমনোযোগী খাওয়া : ফোনে কথা বলতে বলতে বা অন্য কাজে মন দিয়ে খেলে কতটা খাচ্ছেন, খেয়াল থাকে না।
পরামর্শ : খাওয়ার সময় অন্য কাজ সরিয়ে রেখে মনোযোগ দিন শুধু খাবারের দিকে।
সামনে অনেক রকম খাবার : একসঙ্গে অনেক খাবার দেখলে ‘সব একটু করে’ খেতে গিয়ে পরিমাণ বেড়ে যায়।
পরামর্শ : আগে সব খাবার দেখে নিন, তারপর যেটা সবচেয়ে বেশি খেতে ইচ্ছে করছে সেটাই বেছে নিন।
হরমোনের প্রভাব : ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে দুটি হরমোন লেপটিন (পেট ভরার অনুভূতি দেয়) এবং ঘ্রেলিন (ক্ষুধা বাড়ায়)।
পরামর্শ : সারা দিন শরীর আর্দ্র রাখা ও পর্যাপ্ত পানি পান ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ঘুমের অভাব : ঘুম কম হলে ক্ষুধা বাড়ে। ঘুম হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
পরামর্শ : প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
কঠোর ডায়েটিং : ডায়েটের সময় চিনি বা কার্বোহাইড্রেট হঠাৎ কমিয়ে দিলে অনেক সময় ঝোঁকের বশে বেশি খেয়ে ফেলা হয়।
পরামর্শ : রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
সবশেষে বলা যায়, অতিরিক্ত খাওয়া শুধু ইচ্ছাশক্তির সমস্যা নয়, এর পেছনে থাকে পরিবেশ, আবেগ, অভ্যাস, এমনকি হরমোনের প্রভাবও। সচেতনতা আর ছোট ছোট অভ্যাসের পরিবর্তনই পারে বড় পরিবর্তন আনতে।
আয়শা/২৯ জানুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৩:৫৫






