
ডেস্ক নিউজ : দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মো. আতাউর রহমান আতা এবং ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সদস্য সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাদের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে মো. আতাউর রহমান আতা এবং সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সব পর্যায়ের পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ঝিনাইদহ-৪ আসন (কালীগঞ্জ উপজেলা ও ঝিনাইদহ সদরের চার ইউনিয়ন) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সদ্য দলে যোগ দেওয়া গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ফিরোজ।
গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ায় সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, ছাত্রজীবন থেকে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দলের জন্য কাজ করেছেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এমন একজনকে, যিনি বিএনপির কেউ নন বলে দাবি করেন তিনি। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবির মুখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান ফিরোজ।
অন্যদিকে, আতাউর রহমান আতা মানিকগঞ্জ-৩ আসন (সাটুরিয়া-মানিকগঞ্জ সদর) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এবং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দুইবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা, যিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রয়াত মন্ত্রী হারুনার রশিদ খানের মেয়ে।
আতাউর রহমান আতা গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আওয়ামী সরকারের সময়ে তিনি মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার কারণে বহিষ্কার হওয়াকে অস্বাভাবিক মনে করেন না বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, দল তার কাজ করেছে, আর তিনি তার কাজ করবেন। বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট দুই আসনে রাজনৈতিক আলোচনা ও উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আয়শা/২০ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৯:৫৫






