
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন এক বছর আগে। এরপর ক্ষমতা হাতে তুলে নেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। এই এক বছর পূর্তি উদযাপন করতে দামেস্কের উমাইয়া স্কয়ারে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। জয়ধ্বনিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয় গোটা এলাকা।
যুদ্ধকালীন সামরিক পোশাকে ভোরে নামাজ পড়েন প্রেসিডেন্ট আল-শারা। এদিন তিনি এক বক্তব্যে বলেন, বিশ্ব সিরিয়াকে আর করুণার চোখে দেখে না। সম্মান ও গর্বের চোখে দেখে। মাত্র এক বছরে তারা আলো ফিরিয়ে এনেছেন বলেও দাবি করেন। কিন্তু উৎসবের আড়ালে যুদ্ধ-ফেরা মানুষের গল্প একেবারেই আলাদা। বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরে বাসিন্দারা দেখছেন, ঘর নেই, কাজ নেই, জমিও খরায় চৌচির। গেল এক বছরে সিরিয়ায় ফিরেছেন ১০ লাখের বেশি বাসিন্দা।
ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো, বেকারত্ব আর সেবা সংকট তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এছাড়া জার্মানিতে থাকা সিরীয়দের মনেও দেখা দিয়েছে দোটানা। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই জার্মানিতে জীবন গড়ে নিয়েছেন, সন্তানরা স্কুলে যায় তাই দেশে ফেরা সহজ হবে না। এছাড়া যারা নাগরিকত্ব পাননি তারাও ভয় পাচ্ছেন হঠাৎ কোনো চিঠি এসে বলবে ফিরে যেতে হবে।
গত মাসে জার্মান চ্যান্সেলর ঘোষণাও দিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ, তাই সিরীয়দের আর আশ্রয়ের কারণ নেই। উদযাপনের দিনে কুর্দি বাস্তুচ্যুতদেরও জীবনও অনিশ্চয়তায়। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে সাধারণ মানুষ বলছেন, সারা দেশ উদযাপন করছে কিন্তু তারা কিছুই অনুভব করেন না। ফেরার নিরাপত্তা নেই। তাছাড়া প্রশ্ন উঠছে, ঘর ছাড়া মানুষ কীভাবে স্বাধীনতা উদযাপন করবে? কিংবা ফেরার মতো নিরাপদ কি নতুন সিরিয়া?
খোরশেদ/০৯ ডিসেম্বর ২০২৫,/দুপুর ২:৩৩





