
ডেস্ক নিউজ : আলুর বাজারে বর্তমান দামের হিসাব মেলাতে পারছেন না খোদ কারওয়ান বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। অতীতের কোনো পরিসংখ্যান সায় দিচ্ছে না বেচাকেনায়। এক ব্যবসায়ী বলেন, এ বছর দাম অনেক বেশি। আগের বছরও একই সময়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত পাইকারিতেই ৪০ টাকা থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে আলু কিনে আনতে হচ্ছে আমাদের। দাম বাড়লে তো সমস্যা। বেচাবিক্রিও কম। আমাদের কেনাও হয় কম করে।
তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে কৃষকের আলু চাষে খরচ হয়েছে কেজিতে ১৪ টাকা থেকে ১৬ টাকা। বিপরীতে লভ্যাংশের অংশ যোগ করে পাইকারি পর্যায়েই বিক্রি হচ্ছে তিনগুণ বেশি দামে। এতটা দাম অযৌক্তিক বলছে খোদ কৃষি বিভাগ।সুবিধাভোগী সবাই বাজার কারসাজিতে জড়িত বলে মনে করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, আলু উৎপাদনে তেমন কোনো ঘাটতি নেই।
কিন্তু বাজার ব্যবস্থাপনা বা যারা আমাদের ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাদেরও দৃষ্টিভঙ্গি একটু পরিবর্তন করতে হবে। বর্তমানে চাষি পর্যায়েই ২৫ থেকে ৪০ টাকা লাভে বিক্রি করা হচ্ছে। আবার সেই আলুগুলো ঢাকার বাজারে বা বড় সিন্ডিকেটে যাওয়ার পর দাম ২০০ শতাংশ বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সব কিছু বিবেচনা করতে তো এমনটা হওয়ার কথা না।
দেশের আলু উৎপাদনের পরিসংখ্যান বলছে, তিন বছরে আলুর চাষাবাদ কমেছে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে। যেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে আলু চাষ হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার হেক্টর জমিতে, সেখানে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চাষাবাদ হয়েছে যথাক্রমে ৪ লাখ ৫৫ হাজার হেক্টর ও ৩ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

কিন্তু পরিসংখ্যানে প্রতিবছর বাড়ছে আলুর উৎপাদন। যেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে আলু উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ মেট্রিক টন, সেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৪ লাখ মেট্রিক টন। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ মেট্রিক টন।
আবার উৎপাদন অংকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যে রয়েছে ভিন্নতা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, ২০২৩ সালে ১ কোটি ৪ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব বলছে, গত বছর উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি মেট্রিক টনেরও কম আলু। আবার বিদায়ী বছরে ৮৫ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের কথা বলছে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন।
এমন অবস্থায় বিশ্লেষকরা বলছেন, তথ্যের গড়মিলে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা কঠিন। এ প্রসঙ্গে বাজার বিশ্লেষক মো. মজিবুল হক বলেন, তথ্যের গড়মিল থেকে যদি বের না হওয়া যায়, তাহলে বাজার ব্যবস্থাপনায় সবসময়ে একটি অস্থিরতা বিরাজ করবে। এবং সেই ক্ষেত্রে বাজার ব্যবস্থাপনায় কি হচ্ছে তা চিহ্নিত করা যায় না। পণ্য কি উৎপাদন বেশি করা হয়েছে, না কি সরবরাহ কম, অথবা বাজার সিন্ডিকেট করা হচ্ছে, বাজারে আসলে হচ্ছে টা কি, তা বুঝা যায় না।
কৃষি খাতের প্রধান শস্যগুলোর দাম নিয়ে সিন্ডিকেট বন্ধে গ্রাম থেকে শহর পর্যায়ে সরকারিভাবে বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।
কিউটিভি/আয়শা/২৫ জানুয়ারী ২০২৪,/দুপুর ১:১৪






