পানি ১০২ ডিগ্রি, অ্যামাজনের লেকে শতাধিক ডলফিনের মৃতদেহ

uploader3 | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৩ - ০১:২৮:৫২ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পৃথিবীর ফুসফুস হিসেবে পরিচিত ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গল। আর এই বনেই ঐতিহাসিক খরা এবং পানির রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রার কারণে টেফে লেকে একশোরও বেশি ডলফিন মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। লেকটিতে পানির তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত অতিক্রম করেছে।

সম্প্রতি এ বিষয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা সিএনএন।

মৃত ডলফিন ভেসে উঠার আশঙ্কাজনক এ ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রাজিলের বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত মামিরাউয়া ইনস্টিটিউট নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এবং সংস্থাটির রিপোর্টের সত্যতা স্বীকার করেছে ব্রাজিলিয়ান মিনিস্ট্রি অব সায়েন্স।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত সাত দিনে প্রায় শতাধিক মৃত ডলফিনকে লেক টেফেতে পাওয়া গেছে। এই লেকের উচ্চ তাপমাত্রার কারণেই ডলফিনের মৃত্যু হচ্ছে। এই বিপুল ডলফিনের মৃত্যু অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং তা দেশটির জীববৈচিত্রের পক্ষে যথেষ্ট আশঙ্কাজনক বলছে প্রতিষ্ঠানটি।

গবেষক এবং কর্মীরা বেঁচে থাকা ডলফিনগুলিকে উপকণ্ঠের উপহ্রদ এবং পুকুর থেকে নদীর মূল অংশে স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন যেখানে পানি তুলনামূলক কম তাপমাত্রা এবং শীতল। তবে দুর্গম এলাকার কারণে স্থানান্তর কাজটি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মামিরাউয়া ইনস্টিটিউটের গবেষক আন্দ্রে কোয়েলহো সিএনএনকে বলেন, “রিভার ডলফিনকে অন্য নদীতে স্থানান্তর করা ততটা নিরাপদ নয় কারণ টক্সিন বা ভাইরাস আছে কিনা তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।“

এদিকে আমাজনের এই খরা দেশটির অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। আমাজোনাস রাজ্যের ৫৯টি পৌরসভায় পানি স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নদীতে পরিবহন এবং মাছ ধরা উভয় কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে।

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে খরা আরও তীব্র হতে পারে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। যার ফলে আরও ডলফিনের মৃত্যু হতে পারে বলে শঙ্কা গবেষকদের।

অ্যামাজনের জঙ্গল হলো বিশ্বের বৃহত্তম ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট, যা ৫.৫ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। তবে চরম শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ইতোমধ্যেই অ্যামাজনের নদী ও পানির স্তর হ্রাস পেয়েছে। শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে মাঠঘাট, ফেটে যাচ্ছে রাস্তা। এই চরম তাপমাত্রার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে আমাজনের প্রাণীকূলকেও।

কিউটিভি/অনিমা/০৩ অক্টোবর ২০২৩,/দুপুর ১:২৮

▎সর্বশেষ

ad