রোজার তাৎপর্য ও ফজিলত

Ayesha Siddika | আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ০৭:০১:৩৯ পিএম

ডেস্ক নিউজ : উসামা জুনায়েদ

شَہۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡہِ الۡقُرۡاٰنُ ہُدًی لِّلنَّاسِ وَبَیِّنٰتٍ مِّنَ الۡہُدٰی وَالۡفُرۡقَانِ ۚ فَمَنۡ شَہِدَ مِنۡکُمُ الشَّہۡرَ فَلۡیَصُمۡہُ অর্থ: রমজান মাসই হল সে মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে ,যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোজা রাখবে। (সুরা বাকারা, ১৮৫)

রোজা শুধু আমাদের উপর ফরজ নয় বরং পূর্ববর্তী মানুষের উপরও ফরজ ছিলো, যেমনটি মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআন বলেন, یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُتِبَ عَلَیۡکُمُ الصِّیَامُ کَمَا کُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়। ( সুরা বাকারা, ১৮৩) সুতরাং প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ, সক্ষম, সকল নারী পুরুষের উপর রোজা রাখা ফরজ।

এই মাসের বহু ফজিলত রয়েছে,যেমন হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি এ মাসে একটি নফল ইবাদত করল,সে অন্য মাসে একটি ফরজ ইবাদত করলো। আর যে ব্যক্তি এ মাসে কোন ফরজ ইবাদত করল,সে যেন অন্য মাসে ৭০টি ফরজ ইবাদত করল। ( মেশকাত, হাদিস ১৯৬৫) রোজ হাশরে রোজা এবং কোরআন আমাদের জন্য সুপারিশ করবে। যেমন, হাদিসে শরিফে প্রিয়নবী (সা.)বলেছে, রোজা এবং কোরআন কিয়ামতের দিন বান্দার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার কাছে সুপারিশ করবে।
রোজা বলবে,হে আমার রব!  আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার এবং প্রবৃত্তির চাহিদা থেকে বিরত রেখেছি। আপনি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন।  কোরআন বলবে, হে আমার রব! আমি রাতের বেলায় তাকে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতঃপর উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস ৬৬২৬)
রোজা রাখা আমাদের জন্য কল্যাণ কর, মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, وَاَنۡ تَصُوۡمُوۡا خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ অর্থ : আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার। ( সুরা বাকারা ১৮৪) রোজা শরীর জাকাতও বটে কেননা, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, প্রত্যেক বস্তুর জাকাত রয়েছে।  আর শরীরের জাকাত হচ্ছে রোজা। রোজা হচ্ছে সবর বা ধৈর্যের অর্ধেক। (ইবনে মাজাহ,হাদিস ১৭৪৫) রোজা রাখলে শরীর সুস্থ থাকে। যেমনটি হাদিস শরিফে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা রোজা রাখ, সুস্থ থাকবে। ( তারগিব,হাদিস ১৪৫৫)

রোজাদার ব্যক্তির অনেক ফজিলত রয়েছে। হাদিস শরিফে এসেছে, রোজাদারের (ক্ষধা জনিত কারণে)  মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের সুগন্ধির চাইতেও বেশি প্রিয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৮৯৪)  রোজাদারের জন্য আরেকটি বড় সুখবর হলো, তাদের জন্য আলাদা একটি দরজা থাকবে, জান্নাতে প্রবেশ করবে। হাদিস শরিফ রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জান্নাতের রাইয়ান নামক দরজা দিয়ে কেবল রোজাদাররাই প্রবেশ করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৮৯৬)

লেখক: শিক্ষার্থী, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া,যাত্রাবাড়ী

 

 

 

আয়শা/১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৫৫

▎সর্বশেষ

ad