এতেকাফ শুরু আজ

Ayesha Siddika | আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৩ - ০৯:৪৩:০৫ পিএম

ডেস্ক নিউজ : এতেকাফ বাধ্যতামূলক ইবাদত না হলেও, রমজানের শেষ দশকের স্বেচ্ছায় পালনীয় এ ইবাদত খুবই ফজিলতপূর্ল। পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১০ দিন মসজিদে এতেকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্বাদা কিফায়া। অর্থাৎ একজন আদায় করলে মহল্লার সবার এতেকাফ আদায় হয়ে যায়।


আল্লাহ তা’লার নৈকট্য ও ক্ষমালাভের এক অনন্য সুযোগ হলো এতেকাফ। এতেকাফ শুরু করতে হয় ২০ রমজানের সূর্যাস্তের আগ থেকে। আর তা শেষ হয় রমজান শেষ হলে। অর্থাৎ ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা গেলে বা ৩০ তারিখ পূর্ণ হলে।
তাই যারা রমজানের শেষ দশকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, অনুকম্পা, ক্ষমা ও করুণা লাভের আশায় মসজিদে এতেকাফ পালন করতে চান, তাদের বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে মসজিদে গিয়ে অবস্থান নিতে হবে।

সহিহ বুখারি শরীফে ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ যদি রমজানের শেষ ১০ দিন এতেকাফ করতে চায়, তাহলে সে যেন ২০ রমজান সূর্যাস্তের আগেই এতেকাফের নিয়তে মসজিদে প্রবেশ করে।’
এতেকাফ সম্পর্কে আল্লাহ তা’লা পবিত্র কোরআনে সুরা বাকারার ১২৫ নম্বর আয়াতে বলেন,
وَ اِذۡ جَعَلۡنَا الۡبَیۡتَ مَثَابَۃً لِّلنَّاسِ وَ اَمۡنًا ؕ وَ اتَّخِذُوۡا مِنۡ مَّقَامِ اِبۡرٰهٖمَ مُصَلًّی ؕ وَ عَهِدۡنَاۤ اِلٰۤی اِبۡرٰهٖمَ وَ اِسۡمٰعِیۡلَ اَنۡ طَهِّرَا بَیۡتِیَ لِلطَّآئِفِیۡنَ وَ الۡعٰکِفِیۡنَ وَ الرُّکَّعِ السُّجُوۡدِ

অর্থ: ‘আর স্মরণ কর, যখন আমি কাবাকে মানুষের জন্য মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ স্থান বানালাম এবং (আদেশ দিলাম যে,) তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থানরূপে গ্রহণ কর। আর আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে, ‘তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, এতেকাফকারী ও রুকুকারী-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র কর।’
 
মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণের কথা বলেছেন। তাই কেউ যদি লাইলাতুল কদরের অন্বেষণ করতে চায়, তাহলে তার জন্য সর্বোত্তম মাধ্যম হলো এতেকাফ।
 
এতেকাফের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে প্রিয় নবী (সা.) ঘোষণা দেন:

‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন এতেকাফ করবে, আল্লাহ তা’লা তার ও জাহান্নামের মাঝে তিন পরিখা পরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করবেন; যার দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের থেকে বেশি।’ (কানযুল উম্মাল: ২৪০১৯)

এতেকাফ পালনকারী দুই কবুল হজ ও দুই ওমরার সওয়াব পাবেন। রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানে দশ দিন এতেকাফ করবে তার আমলনামায় দুটি কবুল হজ ও দুটি ওমরাহর সমতুল্য সওয়াব লিখা হবে।’ (শুআবুল ইমান: ৩৬৮১; কানযুল উম্মাল: ২৪০০৬)

রাসূল (সা.) আরও বলেন, ‘এতেকাফকারী এতেকাফের কারণে গোনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যায় এবং সব নেকির সওয়াব অর্জন করে।’ (আল মুগনি : ৩/৪৫৫)।

এতেকাফের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বান্দা সচেতন থাকলে এবং অন্তরের গভীরে এতেকাফের চেতনাকে লালনে সমর্থ হলে সীমিত সময়ের এই সাধনা বান্দার বাকি জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

 

কিউটিভি/আয়শা/১২ এপ্রিল ২০২৩,/রাত ৮:৪৫

▎সর্বশেষ

ad