এই সংঘাত বা যুদ্ধের পরিণতি কখনোই ভালো হয়নি। সংঘাতের পরিণতি কখনোই ভালো না। যুদ্ধ বা সংঘাত- তা যেমনই হোক মনুষ্যপ্রাণ তাতে ক্ষতির মুখে পড়ে। আর এ তাড়না থেকেই জার্মান সুপার গ্রুপ স্করপিওন্স গায় পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় যুদ্ধবিরোধী গান- ‘উইন্ড অব চেইঞ্জ’।
অনন্য এই গানটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য শুরুতেই বেজে ওঠে ক্লজ মেনের হুইসেল বা শিস। এর ব্যাকগ্রাউন্ডে গিটারের ইনট্রোডাকশন পিস বাজান ম্যাথিয়াস জ্যাবস। গানের গিটার সলোটি বাজিয়েছেন রুডলফ শেঙ্কার।
সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিজমের পতন বা রেভ্যুলেশন অব ১৯৮৯ এবং বার্লিন প্রাচীর পতনের সঙ্গে গানটির খানিকটা সংযুক্তি আছে বলে মনে করা হয়। অনেক বলে থাকেন, ক্লজ মেনের আড়ালে আসলে গানটি লিখে দেয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। ১৯৯০ সালে প্রকাশিত ব্যান্ডের ১১তম স্টুডিও অ্যালবামের তৃতীয় সিঙ্গেল ‘উইন্ড অব চেইঞ্জ অবমুক্ত’ হয় ১৯৯১ সালের ২১ জানুয়ারি। সারা পৃথিবীজুড়ে আলোড়ন তোলা গানটির চার্টহিট নিয়ে কথা না বলাই ভালো। তবে এটুকু বলি, সর্বকালের সর্বাধিক বিক্রি হওয়া সিঙ্গেলগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘উইন্ড অব চেইঞ্জ’।
ষাটের দশকের মাঝামাঝি (১৯৬৫) রুডলফ শেঙ্কার গড়েন স্করপিওন্স। তখন তিনিই ছিলেন এর ভোকাল। পরের পাঁচ বছর কেউ এসেছেন তার দলে, কেউ-বা চলে গেছেন। তবে ঠিকঠাক কিছু হচ্ছিল না। অবশেষে ১৯৬৯ সালে তার দলে যোগ দেন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ভয়েস আর্টিস্ট ক্লজ মেনে। পরের বছর রুডলপের ভাই আরেক খ্যাত গিটারিস্ট মিখাইল শেঙ্কার। গাঝাড়া দিয়ে ওঠে স্করপিওন্স। ১৯৭২ সালে তারা রিলিজ করে তাদের প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘লোনসাম ক্রো’। সে বছরই ব্রিটিশ ব্যান্ড ইউএফওর ডাকে সাড়া দিয়ে দলত্যাগ করেন মিখাইল। দলে ভেড়েন তারই বন্ধু উলি জন রথ।
এর পর বহু ভাঙাগড়ার ভেতর দিয়ে গেছে স্করপিওন্স। সংগীত ইতিহাসের অন্যতম বড় ব্যান্ড এটি। অন্যতম বেস্ট সেলিং ব্যান্ড। রোলিং স্টোন তাদের বলে ‘হিরোস অব হেভি মেটাল’। এমটিভি বলে ‘অ্যাম্বাসেডর অব রক’।
২০১৫ সালে ব্যান্ডটি তাদের সুবর্ণজয়ন্তী পালন করে। হেভি মেটালের এই সুপার ব্যান্ডটিকে আশির দশকের অনেক সুপার গ্রুপের প্রধান ইনফ্লুয়েন্স হিসেবে ধরা হয়। সেসব সুপার গ্রুপের মধ্যে আছে গানস এন রোজেস, মটলে ক্রু, ডেফ লেপার্ড, মেটালিকা, মেগাডেথ, টেস্টামেন্ট, স্কিড রো, সিনডারেলা, হ্যালোয়েন এবং উইগি মামস্টিন।
অনেক পুরস্কার আছে তাদের ঝুলিতে। ১৯৭২ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ৫০ বছরে মোট ১৯টি স্টুডিও অ্যালবাম রিলিজ করেছে স্করপিওন্স। যার বিশ্বব্যাপী বিক্রির পরিমাণ ১০০ মিলিয়নেরও বেশি।







