ইসরায়েল-ফিলিস্তিন উত্তেজনা, নিহত ৪

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৩ - ০৫:০৪:১৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি পুলিশের অভিযানের পর ইসরায়েলে রকেট হামলা, পাল্টা জবাব হিসেবে লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ইসরায়েলেও একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন পর্যটকও রয়েছে। লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলার এক দিন পরেই তেল আবিবে ও দখলকৃত পশ্চিম তীরে দুটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় একজন ইতালির নাগরিক ও দুই ব্রিটিশ-ইসরায়েলি বোন নিহত হয়েছে। পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে গাড়ি হামলাকারীও।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই এলাকার সড়কগুলো ব্লক করে দিয়ে হামলাকারীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। দক্ষিণ লেবানন এবং গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো হামলা শুরু করার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এসব হামলার ঘটনা ঘটল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গত ১৭ বছরের মধ্যে ইসরায়েলের ওপর চালানো সবচেয়ে বড় রকেট হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে তারা ওই বিমান হামলা চালিয়েছে। সে জন্য তারা দায়ী করেছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসকে।

পূর্ব-জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদে দুই রাত ধরে ইসরায়েলি পুলিশ অভিযান চালানোর পর ওই রকেট হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে। আল-আকসা মসজিদে পুলিশের অভিযান পুরো অঞ্চলজুড়ে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সর্বশেষ গাড়ি হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ। ৪৫ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি শহরের কয়েকজন পথচারীর ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে দুই বোনের নিহত হওয়ার ঘটনাটি ঘটে জর্ডান ভ্যালিতে। প্রথমে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছিল যে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি দুটি গাড়ির সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেনা সদস্যরা ইসরায়েলি গাড়িটিতে অসংখ্য গুলির চিহ্ন দেখতে পান। কালাশনিকভ রাইফেল দিয়ে গুলি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউনাইটেড হাৎযালাহ অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিসের একজন কর্মী জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা গাড়ির ভেতরে তিনজন যাত্রীকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান।

জেরুজালেমের দক্ষিণে দখলকৃত পশ্চিম তীরের বসতি ইফরাতের মেয়র ওডেড রিভিবি জানিয়েছেন, এই পরিবারটি যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে অভিবাসী হয়ে ইসরায়েলে এসেছিল। ছুটি কাটাতে গালিলি সাগরের তীরে তিবেরিয়াস শহরের দিকে যাওয়ার সময় তারা ওই হামলার শিকার হয়। এই হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেনি হামাস। তবে যারা হামলা করেছে, তাদের প্রশংসা করে বলেছে, আল-আকসা মসজিদে যে অপরাধ ঘটে চলেছে, লেবানন এবং গাজায় যে বর্বর হামলা চালানো হচ্ছে, তার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এই হামলা। এই ঘটনার পর যেসব ইসরায়েলির বন্দুকের লাইসেন্স আছে, তাদের সব সময় অস্ত্র বহন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলি পুলিশ কমিশনার কোবি শাবতাই।

এই বছরের শুরু থেকেই ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনিদের মধ্যে একের পর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। 

সূত্র : বিবিসি 

 

 

কিউটিভি/আয়শা/০৮ এপ্রিল ২০২৩,/বিকাল ৫:০২

▎সর্বশেষ

ad