
বিনোদন ডেস্ক : নব্বইয়ের দশকের গ্ল্যামার কুইনের মৃত্যু আজও রহস্যে মোড়ানো। তার মৃত্যুকে চোখের সামনে দেখেও বিশ্বাস করতে পারছিল না প্রত্যক্ষদর্শীরা। কারণ পুরো ঘটনাই ঘটে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে। দিব্যার ফিল্মি যাত্রার শুরু দক্ষিণি সিনেমা দিয়ে। তেলেগু ছায়াছবি ‘বব্বিলি রাজা’তে অভিনয় করার পরই বলিউড পরিচালক-প্রযোজকদের নজরে পড়েন তিনি। এর পর একে একে হিন্দি আর তামিল সিনেমায় ধরা দেন এ অভিনেত্রী।
১৯৯২ সালে বিশ্বাত্মা সিনেমার গান সাত সমন্দর পার এখনও দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই রূপ আর দক্ষতা গুণে বলিউডে রাজত্ব শুরু করেছিলেন দিব্যা। তাই সেসময় নায়িকাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক তিনিই পেতেন। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই ১৯৯২ সালে পরিচালক-প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল দিব্যার। পরের বছরই আকস্মিক মৃত্যু হয় নায়িকার।
৫ এপ্রিল, ১৯৯৩ রাত ১১টায় স্বামীর বাড়িতে ছিল জমকালো পার্টি। এ পার্টির ভরা অতিথির মাঝেই ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় তার। আমন্ত্রিত অতিথিরা যখন উপর থেকে দিব্যার লাশ পড়তে দেখেন কিছুতেই মিলাতে পারছিলেন না তার মৃত্যুর কারণ। আত্মহত্যা নাকি আত্মহনন তা আজও অজানা রয়ে গেছে। প্রতিশ্রুতিমান এক অভিনেত্রীর অকালে ঝরে যাওয়াকে সহজে মেনে নিতে পারেনি বলিউড জগত। একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে বারবার। কিন্তু আড়ালে কে? খোঁজ মেলেনি আজও। পুলিশও যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ না পেয়ে তদন্ত বন্ধ করেছে।
মৃত্যুর আগে অভিনেত্রীর সঙ্গে অভিনয় করার সুযোগ হয়েছিল বলিউড কিং শাহরুখ খানের। সেসময় শাহরুখ দিল্লিতে ছিলেন। টিভিতে অভিনেত্রীর মৃত্যু সংবাদ শুনে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না শাহরুখ। যদি দিব্যা না মারা যেতেন তবে কাজল শাহরুখের চেয়ে দিব্যা শাহরুখ জুটিই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠত, এমনটাই মনে করেন বলিউড বোদ্ধারা।
দিব্যাকে হারানোর ত্রিশ বছর পার হয়েছে। অথচ ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা এ অভিনেত্রীর হঠাৎ মৃত্যুর কারণ আজও খুঁজে পায়নি পুলিশ। দিব্যার মৃত্যুর মাধ্যমে বলিউডের আকাশ থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলেও সে নক্ষত্র পতনের কারণ সবার কাছে আজও হয়ে আছে রহস্যময়।
সূত্র: আনন্দবাজার
কিউটিভি/আয়শা/০৮ এপ্রিল ২০২৩,/বিকাল ৪:২৮






