
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সোমবার (৩ এপ্রিল) লাহোরে তার জামান পার্কের বাসভবনে আল জাজিরাকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন বিরোধী দলীয় এ নেতা। সাক্ষাৎকারে ইমরান খান বলেন, ‘সরকার নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে ভীত। কারণ সবগুলো জনমত জরিপই বলছে, এখন ভোট হলে তারা চরমভাবে হারবে। এজনই তারা নির্বাচন দিতে সময়ক্ষেপণ করছে। এমনকি নির্বাচন বিলম্বিত করতে তারা সংবিধানও লঙ্ঘন করতে ইচ্ছুক।’
আল জাজিরাকে সাক্ষাৎকার দেয়ার একদিন পর মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) এক রায়ে পাকিস্তানের দুটি প্রদেশে আগামী মাসেই নির্বাচন আয়োজন করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয় পাক সুপ্রিম কোর্ট। গত বছরের এপ্রিলে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আগাম জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছে ইমরান খান নেতৃত্বাধীন তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
নির্বাচন আয়োজনে সরকারের ওপর আরও বেশি চাপ প্রয়োগ করতে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাব প্রদেশে প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ভেঙে দেন ইমরান খান। পাকিস্তানে ঐতিহাসিকভাবে জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচন একসঙ্গে হয়। তবে সংবিধানে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন সংবিধানের এই বিধি মানতে বাধ্য।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শাকবাজ শরিফ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার নানা অজুহাতে নির্বাচন আয়োজনে বিলম্ব করছে। অর্থনৈতিক সংকটের দোহাই দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় তহবিল দিতে অস্বীকার করছে সরকার। অন্যদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট ওই দুই প্রদেশে দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার নির্দেশ দিলেও তা ঘোষণা করতে অস্বীকৃতি জানায় পাক নির্বাচন কমিশন।
অবশেষে নির্বাচন কমিশন গত মাসে এক ঘোষণায় জানায়, ৩০ এপ্রিল পাঞ্জাব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এরপরই সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করে জানায়, আগামী ৮ অক্টোবর নির্বাচন হবে। ফলে বাধ্য হয়ে শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয় বিরোধী দল পিটিআই। এ ব্যাপারে আল জাজিরাকে ইমরান খান বলেন, ‘আমরা পিটিআই শাসিত দুটি প্রদেশের প্রাদেশিক সরকার ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরপরই দেশের শীর্ষ আইনজীবী নিয়োগ করি। আমরা তখন সংবিধানের দিকে নজর দিই। সংবিধান বলছে, পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে।’
সেই হিসেবে চলতি মাসের শেষের দিকে নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার সংবিধানের এই বিধি মানেনি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়। যার রায় গেছে বিরোধীদের পক্ষেই। পিটিআই চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখন সরকার যদি সুপ্রিম কোর্টের রায়ও না মানে, তার মানে দাঁড়াবে, তারা এখন সংবিধান লঙ্ঘন করতেও প্রস্তুত। সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনতে পারে।’ ইমরান খান বলেন, ‘সেক্ষেত্রে শুধু পিটিআই নয়, পাকিস্তানের সকল জনগণ সর্বোচ্চ আদালতের পাশেই দাঁড়াবে।’
কিউটিভি/আয়শা/০৫ এপ্রিল ২০২৩,/রাত ১০:৩৫






