আমার পৃথিবী ঘুরছে রঙ্গনের কক্ষপথে : আসিফ

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৩ - ০৭:৫৩:৫৪ পিএম

বিনোদন ডেস্ক : গত বছর মেয়ের বাবা হয়েছেন গায়ক আসিফ আকবর। মেয়ের নাম আইদাহ আসিফ রঙ্গন। তাকে ঘিরেই মেতে আছেন এ গায়ক। প্রায়ই সোশালে মেয়ের ছবি শেয়ার করে নানা বিষয় তুলে ধরেন তিনি। আজ শুক্রবার (৩ মার্চ) সকালে মেয়েকে কোলে নিয়ে তোলা একটি ছবি পোস্ট করেন আসিফ। লেখেন, একান্নো বছরে এসে এখন আইদাহর জন্য আরও বাঁচতে ইচ্ছে করে, হায়াতের মালিক আল্লাহ।

সব নির্দিষ্ট জেনেও এই আকুতি থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই কোনো বাবার। দুনিয়ার হাটবাজারে লোভ স্বার্থ পরচর্চায় ব্যস্ত থেকে মানবজীবনের মর্ম বোঝা সহজ কাজ নয়। তবুও আমরা অন্যকে ঠকানো বা ছোট করার মিশনে ব্যস্ত। আত্মোপলদ্ধির সময় ক্রমশ শেষ হয়ে আসে, দুনিয়ার কাজ বাকি থেকে যায়। মেয়ের বাবা আর বাবার মেয়ে সম্পর্কটা খুব অদ্ভুত রকমের শক্তিশালী। আমার একরোখা জীবনে ফুলস্টপ দিয়ে দিয়েছে ছোট্ট রঙ্গন, বদলে ফেলেছি নিজেকে। টরন্টোতে বড় ছেলের সাথে প্রতিদিনই ম্যাসেজে কথপোকথন হয়, ছোটজনও যথেষ্ট দায়িত্বশীল। তাদের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই আমার।

আসিফ জানান, অনেকদিন পর কুমিল্লা গিয়ে বেশ কয়েকদিন থাকলাম। বন্ধু মাসুদ আলীর প্রয়াণে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত আমরা। ঢাকার সব কাজ বন্ধ করে আড্ডার বন্ধুদের সঙ্গে সময়টা কাটানো ছিল এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি খোঁজা। মন খারাপের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যাওয়াটা কারও জন্যই সুখকর নয়। একসাথে থাকতে পারলে অনেক শেয়ারিং হয়, অনিবার্য কষ্টবোধ থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়। গায়কের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি পরিবারে কোনো মুরুব্বি মারা গেলে সিনিয়র সদস্যরা সবাইকে নিয়ে বসে অতীতের মজার সুখ-সংগ্রামের গল্প করতেন। সেখানে উপস্থিত মনযোগী কয়েক প্রজন্ম সেই গল্পগুলোকে নিজেদের পরবর্তী জীবনে পথ চলার দীক্ষা হিসেবে নিতে পারে।

তিনি জানান, গতকাল দুপুরে ড্রাইভ করে ঢাকায় ফিরেছি। সামনের সিটে ছোট্ট রঙ্গন নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে তার মায়ের কোলে। পেছনের সিটে রঙ্গনের কেয়ারটেকার সাহারাও ঘুমে নিমগ্ন। বেগমের সতর্ক চোখও বুঁজে আসছে খানিক পরপর, সে জানে চালকের পাশের সিটে ঘুমিয়ে যাওয়া অপরাধ। হাইওয়েতে গাড়ি চলছে আস্তেধীরেই। আমার মাথায় বিগত জীবনের স্মৃতিগুলোর ফ্ল্যাশব্যাক হচ্ছে কোটি কোটি মাইল স্পিডে। এই দুনিয়ায় এসে কাটিয়ে দেওয়া সময়গুলোর রোমন্থনে মন আজ শান্ত। অনেক পাওয়া আর হারানোর অসীম হিসেব নিকেশ থেকে মুক্ত। পরিবারের সদস্যদের নিশ্চিন্তে ঘুমানোর ব্যবস্থা করতে পারাটাই প্রতিটি বাবার জীবনের আসল প্রশান্তি। দুনিয়ার হাজারো কঠিন বাস্তবতা সেখানে হার মেনে যায়।

সবশেষে আসিফ লেখেন, মাসুদ আলীর পথচলা থেমে গেছে। তার স্ত্রী আর দুটো শিশু মেয়ের দিন এখন কাটছে কিভাবে! এই উৎকণ্ঠার মাঝেই আমার পৃথিবী ঘুরছে রঙ্গনের কক্ষপথে। পৃথিবীর সব রঙ্গনই খুব মায়াবতী, আমার রঙ্গনও ঠিক তেমনই। ভালোবাসা অবিরাম।

 

 

কিউটিভি/আয়শা/০৩ মার্চ ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:৫০

▎সর্বশেষ

ad