এক দেশে জন্ম, আরেক দেশের হয়ে খেলেছেন যারা

Ayesha Siddika | আপডেট: ০১ জুলাই ২০২২ - ১২:৪৭:২০ পিএম

স্পোর্টস ডেস্ক : ইয়ন মরগ্যান জন্ম আয়ারল্যান্ডে। ক্রিকেটের হাতেখড়িটাও সেখানে। ২০০৯ সালে আয়ারল্যান্ড থেকে জাতীয়তা বদলে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সাদা বলের দুই ফরম্যাটেই দেশটির অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। ২২৫ ওয়ানডেতে ১৩ শতকে প্রায় ৭ হাজার রান এবং ১১৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রায় আড়াই হাজার রান করে ক্রিকেটকে বিদায় জানান ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

২০১৫ সালে অ্যালিস্টার কুকের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর ইংল্যান্ডকে ১২৬ ওডিআই এবং ৭২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন মরগ্যান। তার নেতৃত্বেই ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠে দল। এরপর ২০১৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে শিরোপা জয়।

বেন স্টোকস

১৯৯১ সালের ৪ জুন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জন্ম নেন বেন স্টোকস। তার বাবা-মা এখনও নিউজিল্যান্ডেই থাকেন। কিন্তু ২০০৩ সালের পর স্টোকস থিতু হয়েছেন ইংল্যান্ডে। সেই দেশের নাগরিকত্বও পেয়েছেন অনেক আগে। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অবিচ্ছেদ্য অংশও বনে গেছেন তিনি। গত ২০১৯ বিশ্বকাপে তার অনবদ্য পারফরম্যান্সে প্রথম শিরোপার স্বাদ পায় ইংলিশরা। বর্তমানে টেস্ট দলের নেতৃত্ব সামলাচ্ছেন স্টোকস।

অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস

অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের জন্ম ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে। বাবা-মায়ের সঙ্গে শৈশবেই পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। পরে সেখানেই শুরু করেন ক্রিকেট, ঘরোয়া লিগে দারুণ পারফর্ম করে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলেও জায়গা করে নেন।

১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা সামইন্ডসের টেস্ট অভিষেক ২০০৪ সালে। এই অলরাউন্ডার ২৬ টেস্টে ৪০.৬১ গড়ে করেছেন ১,৪৬২ রান, আর উইকেট ২৪টি। ওয়ানডেতে ছিলেন অবশ্য দুর্দান্ত। ১৯৮ ম্যাচে ৫,০৮৮ রানের সঙ্গে পেয়েছেন ১৩৩ উইকেট। সাইমন্ডস অস্ট্রেলিয়ার ২০০৩ ও ২০০৭ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য। কদিন আগে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন কিংবদন্তি এ অলরাউন্ডার।

সিকান্দার রাজা

জিম্বাবুয়ের বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সিকান্দার রাজার জন্ম কিন্তু আফ্রিকার দেশটিতে নয়। ১৯৮৬ সালে এই অলরাউন্ডার জন্ম পাকিস্তানের শিয়ালকোটে। ২০০১ সালে সিকান্দার পাড়ি জমান তার ‘নতুন দেশে’। জিম্বাবুয়েতে ঘরোয়া পর্যায়ে খেলা শুরু করা এই অলরাউন্ডার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নজরে পড়ে যায় নির্বাচকদের। এখন তিনি আফ্রিকার দেশটির হয়েই খেলছেন।

ইমরান তাহির

সীমিত ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম পছন্দের বোলার ইমরান তাহির। প্রোটিয়াদের জার্সিতে মাঠ মাতালেও ১৯৭৯ সালে এই স্পিনারের জন্ম পাকিস্তানের লাহোরে। তিনি কিন্তু ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন পাকিস্তানেই, এমনকি জন্মস্থানের হয়ে খেলেছেন ১৯৯৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও। তবে পরে পাড়ি জমান দক্ষিণ আফ্রিকায়।

৩৯ বছর বয়সী তাহিরের দক্ষিণ আফ্রিকা দলে অভিষেক ২০১১ সালে ওয়ানডে দিয়ে। এখন পর্যন্ত ৮৫ ওয়ানডেতে এই স্পিনারের শিকার ১৩৯ উইকেট, ৩৬ টি-টোয়েন্টিতে পেয়েছেন ৫৭ উইকেট। টেস্টে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও ২০ ম্যাচে নিয়েছেন ৫৭ উইকেট।

কেভিন পিটারসেন

দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম কেভিন পিটারসেনের। ১৯৮০ সালে নাতালের পিটারমরিটসবার্গে জন্ম তার। শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া লিগ খেললেও পরে চলে আসেন ইংল্যান্ডে। আর সেখানেই শুরু করেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।

২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের জার্সিতে ওয়ানডে অভিষেক হওয়া পিটারসেন পরের বছরই সুযোগ পেয়ে যান টেস্ট দলে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পরিণত হন ইংলিশদের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানে। ১০৪ টেস্টে ২৩ সেঞ্চুরিতে তার রান ৮ হাজার ১৮১। আর ১৩৬ ওয়ানডেতে ৯ সেঞ্চুরিতে করেছেন ৪ হাজার ৪৪০ রান।

 

 

কিউটিভি/আয়শা/০১ জুলাই ২০২২, খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১২:৪৫

▎সর্বশেষ

ad