গানের সাফল্য নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শ্রেয়া ঘোষালের

Ayesha Siddika | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ০১:৫৫:১৫ পিএম

বিনোদন ডেস্ক : বর্তমান ডিজিটাল যুগে একটি গানের সাফল্যের পরিমাপ কেবল সামাজিক মাধ্যমে ‘লাইক’ কিংবা ‘ভিউ’ দিয়ে মাপ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংগীত জগতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল। কারণ সব কিছুই কেনা যায় টাকার বিনিময়ে বলেও জানান তিনি।

এখনকার দিনে গান হিট কিনা, তা বুঝতে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ইউটিউবের ভিউ কিংবা ইনস্টাগ্রাম রিলসের সংখ্যার দিকে তাকান। কিন্তু সুরসম্রাজ্ঞী শ্রেয়া ঘোষাল এ ধারণার সম্পূর্ণ বিরোধী। এ গায়িকা মনে করেন, ডিজিটাল দুনিয়ার এ সংখ্যাতত্ত্ব অনেক সময় ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং ‘সাজানো’ হতে পারে।

সোজাসাপ্টা ভাষায় শ্রেয়া ঘোষাল বলেন, সামাজিক মাধ্যমে লাইক আর ভিউ আজকাল অনায়াসেই কেনা যায়। লাইক আর ভিউয়ের সংখ্যা অনেক সময় আসল ছবিটা দেখায় না। কারণ এখনকার দিনে প্রায় সব কিছুই কেনা সম্ভব। টাকা দিলেই ভিউ বাড়ানো যায়। তাই কোনো গানের কোটি কোটি ভিউ মানেই যে তা মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে, এমনটি ভাবা ভুল।

সাফল্যের আসল মাপকাঠি হচ্ছে— মঞ্চ। একটি গানের আসল মাপকাঠি পরীক্ষা হয় মঞ্চে। যখন তিনি কোনো লাইভ কনসার্টে গানটি গাইতে শুরু করেন এবং হাজার হাজার মানুষ তার সঙ্গে গলা মেলায়, তখনই বোঝা যায় গানটি জনপ্রিয় হয়েছে। অথবা যদি কোনো গান প্রথমবার গাওয়ার পর শ্রোতারা পরের কনসার্টেও সেটি গাওয়ার অনুরোধ করেন, তবেই সেই গানটি সার্থক।

যদিও ভিউ কেনা নিয়ে তিনি সরব হয়েছেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে ভালো দিকটিও তিনি স্বীকার করেছেন। শ্রেয়া বলেন, এখনকার মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি অনেক বেশি ‘গণতান্ত্রিক’। আগে কিছু হাতেগোনা মানুষ ঠিক করতেন কোন গানটি জনপ্রিয় হবে, কিন্তু এখন শ্রোতারাই আসল বিচারক। তারা কী শুনতে চান, তার ওপর ভিত্তি করেই গানের জনপ্রিয়তা তৈরি হয়।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্ম। মাত্র ৪ বছর বয়স থেকেই মায়ের কাছে গানের তালিম শুরু করেন শ্রেয়া। পরে রাজস্থানের রাওয়াতভাটায় বড় হয়ে ওঠা এবং প্রথাগত হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের শিক্ষাগ্রহণ। ২০০০ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে জিটিভির রিয়ালিটি শো ‘সা রে গা মা পা’-তে অংশ নেন এবং বিজয়ী হন। সেখানেই পরিচালক সঞ্জয়লীলা বানসালির নজরে আসেন তিনি। বানসালি তার ড্রিম প্রজেক্ট ‘দেবদাস’-এ ঐশ্বরিয়া রাইয়ের (পারো) কণ্ঠ হিসেবে শ্রেয়াকে সুযোগ দেন।

‘ডোলারে ডোলা’ বা ‘বৈরী পিয়া’-র মতো গানে তার কাজ রাতারাতি তাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়। প্রথম ছবিতেই জেতেন ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রায় আড়াই দশক ধরে শ্রেয়ার কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ আসমুদ্র হিমাচল। লতাপরবর্তী জামানায় গোটা দেশের সবচেয়ে পছন্দের গায়িকার তালিকায় একদম ওপরের দিকে রয়েছেন এ বাঙালি কন্যা।

শ্রেয়া ঘোষাল বর্তমানে তার আসন্ন বিশ্ব সফর ‘দ্যা আনস্টপেবল ট্যুর ২০২৬-২৭’ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২০২৪ ও ২৫ সালেও তার শো ছিল হাউসফুল। এবার তিনি তার দুই দশকের সংগীত সফরের এক অনন্য অভিজ্ঞতা নিয়ে ভক্তদের সামনে হাজির হতে চলেছেন।

 

 

আয়শা/২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/দুপুর ১:৫৪

▎সর্বশেষ

ad