
ডেস্ক নিউজ : বগুড়ায় পবিত্র রমজান শুরুর আগেই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় লেবুর দাম বেড়ে গেছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি হালি লেবু ১০-১২ টাকায় বিক্রি হলেও সোমবার প্রতি পিস ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সোমবার বগুড়া শহরের রাজাবাজার, ফতেহআলী বাজার, কাঁঠালতলা, নামাজগড়, ফুলবাড়িসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শরবত খাওয়ার লেবুর দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি পিস লেবুর দাম বেড়েছে ছয় থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। প্রতি পিস লেবু ১০ টাকা থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে, ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা। বড় সাইজের লেবু প্রতি পিস ১৬ টাকা থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
খুচরা ব্যবসায়ীর এ মূল্য বৃদ্ধির জন্য অধিক মুনাফাখোর লেবু বাগান মালিক ও আড়ৎদারদের দায়ি করেছেন। তারা বলছেন, রমজানে বেশি লাভের আশায় তারা লেবু ধরে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। এতে বাজারে লেবুর দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন লেবুর মৌসুম নয়। বাগানে গাছে নতুন ফুল ও ছোট ফল আসায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে, এজন্য দাম বেড়েছে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে শহরের ফতেহআলী বাজারে মাঝারি আকারে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হয়েছিল, ১৬ টাকা থেকে ২০ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে, ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা। যদিও মাসখানেক আগে এ মানের লেবুর প্রতিটি বিক্রি হয়েছিল, তিন টাকা থেকে পাঁচ টাকা দরে। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে প্রতি পিস লেবুর দাম চারগুণ বেড়েছে।
শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ার মুদি দোকানি লিখন শেখ জানান, সপ্তাহ আগেও তিনি প্রতি পিস লেবু ৩-৪ টাকায় বিক্রি করেছেন। এখন প্রতিপিস লেবু ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করছেন। শহরের রাজাবাজারের লেবু ব্যবসায়ী রমজান আলী জানান, এখন লেবুর মৌসুম নয়। গাছে নতুন ফুল ও ছোট আকারের লেবু আছে। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় লেবুর দাম বেড়েছে।
তিনি বলেন, লেবুর দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। বগুড়া শহরের সাতমাথায় লাল চা বিক্রেতা শাহীন মিয়া বলেন, আগে ৩২ থেকে ৩৬ টাকায় এক হালি ভালো মানের লেবু পাওয়া যেত। এখন সেই লেবুর হালি ৮০ টাকা। শতকরা হিসেবে পাইকারি কিনলে ১ হাজার ৬শ টাকা। যার জন্য ছয় টাকার লাল লেবু চা ১০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজাবাজারে লেবু কিনতে আসা শহরের বাদুড়তলার আরমান হোসেন জানান, তার বাড়িতে লেবু নিয়মিত লাগে। এক মাস আগে ভালোমানের প্রতি হালি লেবু ১৫ থেকে ২০ টাকায় কিনেছেন। এখন রোজা আসার আগেই প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে, ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা দরে।
মিজানুর রহমান নামে এক ব্যাংকার জানান, সব সরকারের সময় রমজান মাস এলেই সব নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিশেষ করে লেবু, খেঁজুর, ছোলার দাম বৃদ্ধি পায়। রোজায় সব বাড়িতে লেবুর শরবত পান করা হয়। ফলে বাড়তি দামে তাদের কিনতে হিমমিশ খেতে হচ্ছে। ক্রেতারা লেবুর দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
খোরশেদ/১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ১১:৪৩






