নতুন সরকারের কাছে যা চাইলেন আশরাফুল

Ayesha Siddika | আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ০৫:৪৩:৪২ পিএম

স্পোর্টস ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষ। নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে বাংলদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকার গঠন করবে। তার আগে নতুন সরকারের কাছে নিজেদের চাওয়া ব্যক্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন ছিল আলোচনায়। এই আসনে কোনো প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বীর দুর্নাম করেননি। এই আসনে ফুটবল প্রতীক নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। তিনি বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবের কাছে হেরেছেন। এই এলাকায় বড় হয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তিনি ভোট দিয়েছেন।

ভোট দেওয়ার পর আশরাফুল নতুন সরকারের কাছে ক্রিকেট নিয়ে নিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার। সেজন্য নিজের চাওয়াও জানিয়েছেন। আশরাফুল বলেন, ‘২৬ বছর ধরে আমরা টেস্ট খেলছি। সারা দেশের মানুষ আমাদের ভালো জায়গায় দেখতে চায়। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে হলে সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। এতদিনে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পরও আমাদের যেভাবে উন্নতি করার প্রয়োজন ছিল, আমরা তা করতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘তিন-চারটা টেস্ট ভেন্যু দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়েছে। নতুন সরকার যেন সব খেলার ওপর সমান দৃষ্টি রাখে। সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক না করে সারা দেশে খেলার সুযোগ তৈরি করতে হবে।’এদিকে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো চায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, পেশাদার ক্রীড়া প্রশাসন। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক পরিবেশ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘নতুন সরকারের কাছে মানুষের চাওয়ার শেষ নেই।

তবে ক্রীড়াঙ্গনের চাওয়া একটাই, খেলাধুলা আরও ভালোভাবে আয়োজন করতে হবে। আশা করি, ক্রীড়াবান্ধব কমিটি আসবে। আমরা চাই, দেশে ভালো পরিবেশ হবে। যাতে সামনের দিকে আরও ভালোভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি আমরা। পাশাপাশি ঝুলে থাকা বিভিন্ন জেলা, বিভাগ, ফেডারেশনের নির্বাচন যেন সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়, যাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন হয়।’

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, ‘আমাদের খুব বেশি চাওয়া নেই সরকারের কাছে। আমরা শুধু চাই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত ক্রীড়াঙ্গন, মাঠ চাই, খেলার জায়গা চাই, স্টেডিয়াম চাই, একদম স্কুল লেভেল থেকে খেলা চাই, যাতে আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের আরও উন্নতি হয়, বাচ্চাদেরও ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে স্বপ্ন আরও বড় হয়।’

ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল কবির বলেন, ‘খেলায় যেন আমাদের সামনে কোনো বাধা না থাকে। আমরা চাই ক্রীড়াঙ্গনে সুযোগ-সুবিধা যেন বাড়ানো হয়। সামনে কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান গেমস। এগুলোর জন্য যদি ফান্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে আমরা সুন্দরভাবে অনুশীলন পরিচালনা করে দেশের জন্য কিছু অর্জনের লক্ষ্য নিতে পারব।’

হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘খেলোয়াড়রা যেন সুবিধা পায়। তারা যেন আর্থিকভাবে সাবলম্বি হতে পারে। নিয়মিত অনুশীলন সুবিধা পায়, খেলার জায়গা পায়। নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে গোড়া থেকে যেন আগের মতো সব খেলা আবার শুরু করা যায়।’ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদের চাওয়া, ‘খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের প্রতিও বাড়তি নজর, বেশি করে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজন এবং খেলার সুযোগ ও প্রশিক্ষণ। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের উন্নতির জন্য বিদেশি কোচ আনতে অর্থ সহায়তা। পাঁচ বছরের একটা পরিকল্পনা থাকবে যে, আমি পাঁচ বছরে কোথায় যেতে চাই।’

বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস খান বলেন, ‘নতুন সরকারে যিনি ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্ব নেবেন, নিশ্চয়ই তিনি ক্রীড়াবন্ধব হবেন। তাহলে তিনি আমাদের চাওয়া-পাওয়া বুঝবেন। কীভাবে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতি করা যায় সেটা নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পনা করবেন। আর যদি স্পোর্টসের বাইরে থেকে কেউ আসেন, তার কাছে চাওয়া থাকবে যে, অন্ততপক্ষে ক্রীড়াঙ্গনটা যেন আমরা সুন্দর মতো সাজাতে পারি, সেই ব্যবস্থা করে দেবেন।

’ ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিমল ঘোষের মন্তব্য, ‘নতুন সরকারের কাছে আমাদের চাওয়া সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে ভালো লোককে ফেডারেশনগুলোতে আনা। খেলার যাতে ঝিমিয়ে না পড়ে। গ্রামে-গঞ্জে খেলা ছড়িয়ে দিতে হবে। নতুন প্রজন্মকে টেনে তুলতে হবে, উদ্বুদ্ধ করতে হবে খেলাধুলার প্রতি। এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে খেলাধুলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।’

 

 

আয়শা/১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৫:৪০

▎সর্বশেষ

ad