
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে সমালোচনার মুখে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বচনকে ঘিরে দুই মাসে চারশোর বেশি সামরিক বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে জাতিসংঘ।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ৪০৮টি সামরিক বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিশ্বাসযোগ্য সূত্রটি যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের মিয়ানমার টিমের প্রধান জেমস রোডেহ্যাভার সতর্ক করে বলেছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ব্যাংকক থেকে কথা বলতে গিয়ে তিনি জেনেভার সাংবাদিকদের বলেন, সূত্রটি ডিসেম্বরের শেষ থেকে গত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকে ভোটগ্রহণের তিনটি ধাপ প্রায় সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত সময়ে যাচাই-বাছাই করেছে।
তিনি বলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পাশাপাশি ভয়ের সংস্কৃতির কারণে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পেতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়েছে। এর আগে গতকাল জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে ‘মিয়ানমারের জনগণের উপর গভীর এবং ব্যাপক হতাশা নেমে এসেছে। সবশেষ সামরিক বাহিনীর আয়োজিত নির্বাচনে তা আরও গভীর হয়ে উঠেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, অনেক মানুষ ভোট দেওয়া বা না দেওয়াকে কেবল ভয়ের বশেই বেছে নিয়েছিলেন। যা তাদের আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের সাথে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক ছিল।
এদিকে নির্বাচনে সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) জাতীয় নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১ দেশের জোট আসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) এখনো এ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই আর্থ-রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার। বেসামরিক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে দেশজুড়ে গণতন্ত্রপন্থিদের বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করেছে সামরিক শাসকগোষ্ঠী। জাতিসংঘের তথ্য, সংঘাতে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ।
সূত্র: বিবিসি।
অনিমা/৩০ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৯:০২





